রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

রজবের ২৭ তারিখের আমল


পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজার বিষয়ে সহীহ হাদীছ সনদ সহকারে।
  أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، وَفِيهِ بَعَثَ اللهُ مُحَمَّدًا “، ” وَرُوِيَ ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ آخَرَ أَضْعَفُ مِنْ هَذَا كَمَا ”

 যেমন- হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফা
3531 – أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: ” فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ ”

রসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- প্রিয় নবী, হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “রজবে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যে এদিন রোজা রাখবে, আর রাত জেগে ইবাদত করবে, তবে সে যেন ১০০ বছরের রোজা রাখল এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলো, আর তা হচ্ছে রজবের ২৭ তারিখ।” (শোয়ায়বুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৬, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৬৯,  জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)
রজব মাসে একটি রাত আছে ওই রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো ২৭মে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য কোন আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ  (দুরুদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নক্তো দুআ ১০০ বার পাঠ করবে-
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ 
অতপর ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যানকর যত দু‘আই করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দু‘আই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুণাহের কাজে জন্য দু‘আ ব্যতীত। (শোয়াবুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬পৃ, হাদিস-৩৫৩১, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৭ : হাদীস ১২, তাবয়িনুল আযাব বিমা উরিদা ফি ফাদলি রজব ১/৩১, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৭০, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড বাবু হারফূ ফা, আসারুল মারফুয়া  ১/৬১ , তানযিয়াতু শরীয়াতিল মারফুয়া ২/৮৯)
সূতরাং সবাই এই রাতে ইবাদত করে দিনে রোজা রেখে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন।

মি‘রাজ নিয়ে বাতিলের দুটি আপত্তির নিষ্পত্তি


মি‘রাজ নিয়ে বাতিলের দুটি আপত্তির নিষ্পত্তি :
আমাদের কিছু বেশী জ্ঞানী হযরত আজ ২৭ রযব মি‘রাজ এর রাত তা মানতেই চাই না। এবার কথা না বাড়িয়ে কয়েকজন ইমামের অভিমত পেশ করবো যাদের ধুলার সমানও এই কাঠ মোল্লারা হবে না। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন মাহমুদ আইনী (রহ.) বলেন-

كَانَ الْإِسْرَاء لَيْلَة السَّابِع وَالْعِشْرين من رَجَب 
-‘‘রাসূল (দ.) এর ইসরা ভ্রমন বা মি‘রাজ ২৭ ই রযব হয়েছিল।’’ (আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ৪/৩৯পৃ. দারু ইহ্ইয়াউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন) বিশ্বের মুসলিম সমাজের নিকট এ মতই সুপ্রসিদ্ধ। বুখারী শরীফের আরেক ব্যাখ্যাকার আল্লামা শিহাবুদ্দীন কাস্তাল্লানী (রহ.) উল্লেখ করেন-  
كان ليلة السابع والعشرين من رجب
-‘‘মি‘রাজ ২৭ ই রযব হয়েছিল’’ (কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবুল্লাদুনিয়্যাহ, ১/১৬২ পৃ.) এ মত গ্রহণ করে এবং এই মতের ব্যাখ্যায় ইমাম জুরকানী (রহ.) বলেন-
قال بعضهم: وهو الأقوى
-‘‘অনেক ইতিহাসবিদ বলেছেন, এই মতটিই অধিক শক্তিশালী। (জুরকানী, শরহুল মাওয়াহেব, ২/৭১ পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন) এবার আপনাদের সামনে আহলে হাদিস ও দেওবন্দীরা যাকে ইমাম মানেন, তিনি হচ্ছেন আল্লামা হাফেয ইবনে কাসির (রহ.)। এ বিষয়ে তিনি কি বলেন এবার দেখবো। তিনি তার বিখ্যাত একটি গ্রন্থে লিখেন-
أَنَّ الْإِسْرَاءَ كَانَ لَيْلَةَ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
-‘‘অবশ্যই মি‘রাজ সংগঠিত হয়েছে রযব মাসের ২৭ তারিখ।মহান রব তা‘য়ালাই এই বিষয়ে ভাল জানেন।’’ (ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫ পৃ.দারু ইহ্য়িাউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন) যাই হোক তাদের ইমামের কথা তারা না মানলে আমাদের কিছু করার নেই।
মি‘রাজের ইবাদত:
মি‘রাজ উপলক্ষ্যে নামায এবং রোযা রাখলে আমাদের আশে পাশে ফাতওয়া দেওয়ার মৌলভীর অভাব নেই। ইমাম বায়হাকী (রহ.) সংকলন করেন-ইমাম বায়হাকী (রহ.) সংকলন করেন-
عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ
-‘‘হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (দ.) ইরশাদ করেন, রযবের একটি রাত রয়েছে যে রাতে ইবাদত করলে ১০০ শত বছরের (নফল) ইবাদতের সাওয়াব পাওয়া যায়। আর সেটি হচ্ছে রযব মাসের ৩ দিন বাকি থাকার রাত (২৭ ই রযব)। আর এ রাতে ১২ রাক‘আত নামায পড়বে আর প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতেহা ও তার সাথে অন্য সূরা দ্বারা এক সালামে দুই রাক‘আত নামায আদায় করবে এবং নামায শেষে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুল্লিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ১০০ বার পড়বে। আর নবী পাক (দ.) এর উপরে ১০০ বার দরুদ পড়বে এবং তারপরে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য র্প্রাথনা করবে, দিনে রোযা রাখবে তাহলে মহান রব অন্যায় দোয়া ছাড়া সকল দোয়া কবুল করবেন।’’ (ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৫/৩৪৬ পৃ. হা/৩৫৩১) 
এ বিষয়ে ইমাম বায়হাকী (রহ.) আল্লাহ যেন এই ধোঁকাবাজ থেকে হেফাযত করেন। আমিন। যরত সালমান ফারসী (রা.) হতেও আরেকটি হাদিস বর্ননা করেছেন। (ইমাম বায়হাকী, ফাযায়েলুল আওকাত, ১/৯৫ পৃ.) এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস জানতে আমার প্রকাশের পথে ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ তৃতীয় খন্ড দেখুন।

লা-মাযহাবীদেরকে ওয়াহাবি কেন বলা হয়?


লা-মাযহাবীদেরকে ওয়াহাবি কেন বলা হয়?
______________
__________
শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা যতই করা হোক না কেন, মাছ
কিন্তু বেরিয়ে আসে।
ওদেরকে ওয়াহাবী বললে ওরা সহ্য করতে পারেনা।
দীলে অশান্তি পয়দা হয়। আর সে অশান্তিকে শান্তিতে রূপ
দিতে তারা দুটি যুক্তি দাঁড় করে থাকে।
চলুন, দেখে নেই- যুক্তি দুটি কী? তার সাথে জবাবগুলো ও কী?
তাও একটু চোখ বুলিয়ে নেই।
( লেখাটি শেয়ার করবেন- এমন আশা করছি।)
যুক্তিঃ এক
_______________________________________
ওয়াহাবী বলে কাউকে গালি দেয়া ঠিক নয়। কারণ ওয়াহহাব
হচ্ছে আল্লাহর নাম। আল্লাহর নাম নিয়ে কটুক্তি করা কোন
ভাবেই উচিত নয়।
প্রথম জবাবঃ
______________________________________________
আমরা লা মাযহাবীদেরকে ওয়াহাবী বলে থাকি তাদের গুরু
মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাব নজদীকে লক্ষ্য করে।
আল্লাহর নাম হিসেবে নয়। এমন কোন প্রমান কেউ
দিতে পারবেনা যে কেউ আল্লাহর নামের প্রতি লক্ষ্য
করে ওয়াহাবী বলে থাকে। তাছাড়া আল্লাহর অন্য যে কোন
নামকে লক্ষ্য করে এমন ভাবে কাউকে পরিচয় দেয়ার কোন
দৃষ্টান্ত নেই। তাহলে ওয়াহহাবী বলতে কী বুঝানো হয়,
তা আশা করি পরিস্কার হয়ে গেলো। এটা মুহাম্মাদ বিন
আব্দিল ওয়াহাব নজদি নামক খ্রীস্টানদের এজেন্ট ও তার
ভক্তদের চিহ্নিত করতে বলা হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় জবাবঃ
____________________________________
প্রথম জবাবে যা বলা হলো, তার
সোজা সাক্ষী হচ্ছে লামাযহাবীদের আরেক বড় শায়েখ বিন
বায। তাকে ঠিক এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন
তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻠﻘﺐ،ﻫﻮ ﻧﺴﺒﺔ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ
ﺍﻟﻮﻫﺎﺏ
তিনি বলতে চেয়েছেন যে, (ওয়াহাবী) এ উপাধিটি মুহাম্মাদ
বিন আব্দিল ওয়াহাব এর প্রতি নিসবত বা সম্পর্কিত
করে বলা হয়ে থাকে।
রেফারেন্সঃ
মাজমু উ ফাতাওয়াঃ নবম খন্ড।
লক্ষ্যণীয়,
________________________________
বিন বাযের কথা থেকে দুটু জিনিস পরিস্কার হয়ে গেলঃ
১/ এখানে ‘ওয়াহহাব’ আল্লাহর নাম হিসেবে ব্যবহার
করা হয়না, বরং একটি লকব বা উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত
হয়ে থাকে।
২/ ওয়াহহাব নামক এ উপাধীটি মুহাম্মাদ বিন আব্দিল
ওয়াহাব নজদীকে পরিচয় দিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ব্যস, খালাস।
তৃতীয় জবাবঃ
__________________________________
আপনি অবাক হবেন, লা-মাযহাবীরা তাদের পরিচয়
দিতে নিজেরাই ওয়াহাবী শব্দটি ব্যবহার করেছে!!
প্রমাণঃ
তারা বিভিন্ন কিতাব লিখেছে যেখানে তাদের পরিচয়
দিতে গিয়ে তারা নিজেরাই ওয়াহাবী শব্দটি লাগিয়েছে।
কিতাবগুলোর নাম উল্লেখ করছি-
১/ “আল ফাসলুল হাসিমি বাইনাল
ওয়াহাবিয়্যীনা ওয়া মুখালিফীহিম”- লিখেছেন
ওয়াহাবীদের অন্যতম এক নেতা আব্দুল্লাহ আল কুসাইমী।
উনি ওয়াহাবীদের সাফাই গাইতে গিয়ে আবার
আরেকটি কিতাব লিখেছিলেন, যার নাম হচ্ছে-
‘আস সাওরাতুল ওয়াহাবিয়্যাহ’।
দেখুন দুটি কিতাবের নামের মধ্যেই কিন্তু
ওয়াহাবি শব্দটি ব্যবহার করে তাদের পরিচয় পেশ করেছে।
২/ ‘আল হাদিয়্যাতুস সানিয়্যাতু ওয়াত তুহফাতুল
ওয়াহাবিয়্যাতুন নাজদিয়্যাতু’—আরেকটি কিতাবের নাম,
যেখানে সরাসরি ওয়াহাবী লেখক নিজেদের পরিচয়
দিতে গিয়ে ওয়াহহাব শব্দটি ব্যবহার করেছে।
কিতাবটি লিখেছেন, লা মাযহাবী ওয়াহাবীদের এক বড়
শায়েখ সুলাইমান বিন সামহান।
৩/ ‘আসারুদ দা’ওয়াতিল ওয়াহহাবিয়্যাতি’- লিখেছেন আরেক
ওয়াহাবী শায়েখ মুহাম্মাদ হামিদ।
৪/ ‘আল ওয়াহহাবিয়্যূনা ওয়াল হিজাযু’- কিতাবটি লিখেছেন-
মুহাম্মাদ রাশীদ রিদা।
হ্যাঁ, এবার বলুন, এই দুস্টদেরকে কী বলা যায়?
যুক্তিঃ দুই
_______________
ওয়াহাবীরা বলে থাকে, ওরে বোকা, উনার নাম
হচ্ছে মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাব, মানে উনার মূল নাম
হচ্ছে মুহাম্মাদ। বাবার নাম আব্দুল ওয়াহহাব। আরে বোকা,
তোমরা ওয়াহাবী ডাকছো কাকে? একান্তই যদি ডাকতে হয়,
তবে মুহাম্মাদী বলে ডাকো। মুহাম্মাদ থেকে মুহাম্মাদী।
তার নিজের নাম বাদ দিয়ে তার বাবার নাম
নিয়ে লাফালাফি করছো কেন? আসলে তোমরা কী বলছ,
তা নিজেরাও বুঝোনা।
উপযুক্ত জবাবঃ
__________________________________
সরি, আমরা ঠিকই আছি। হে ওয়াহাবী, তোমার ভেতরে যত
সব শয়তানী। দাঁড়াও দেখিয়ে দিচ্ছি।
হে ওয়াহাবী,
____________________
শাফেয়ী মাযহাবের নাম শুনেছো? ইমাম শাফেয়ীর নাম
জানো? বলতো, উনাকে শাফেয়ী বলা হয় কেন? উনার নাম
তো মুহাম্মাদ বিন ইদ্রীস আশ শাফেয়ী।
তোমরা যেভাবে বলছো, তাতে তো উনাকে ইমাম
শাফেয়ী না বলে ইমাম মুহাম্মাদ বলে ডাকার কথা ছিল।
বা মুহাম্মাদী মাযহাব বলা হয় না কেন? উনার দাদার
নামে তাকে বা উনার মাযহাবের পরিচয় দেয়া হয় কেন?
হে ওয়াহাবী,
________________________
হাম্বালী মাযহাবের নাম শুনেছো?
মাযহাবটিকে হাম্বালী মাযহাব বলা হয় কেন? মাযহাবটির
মূল ব্যক্তি হলেন, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল।
হাম্বালী তো হাম্বাল থেকে এসেছে। হাম্বাল কে? ইমাম
আহমাদের দাদা। তো তোমরা যেভাবে বলছো,
তাতে তো মাযহাবের নাম হওয়া উচিত ছিল ইমাম আহমাদের
নাম অনুসারে, অর্থাৎ আহমাদী মাযহাব, তাই নয় কি? কিন্তু
তা না হয়ে দাদার নাম
দিয়ে মাযহাবটিকে হাম্বালী মাযহাব বলা হয় কেন?
হে ওয়াহাবী,
_________________
মাথায় কি এবার কিছু ঢুকলো?

ওহাবীরা জানে মদিনার রাসুল, চিনেনা প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.)-কে ?



এজিদের বীজ থেকে ওহাবীদের জন্ম। আসুন ভাই মুসলমানগন আপনাদেকে বলি এজিদ কে এবং ওহাবী কারা? তারা কি সত্যিই নবী প্রেমিক মুসলমান (?) সৌদি সরকার ওহাবী, মুয়াবিয়া বীজের বংশ তারা। সুতরাং আজ তারা প্রিয় নবীর রওজা পাক সরিয়ে নেয়ার যে জঘন্য কাজে এগিয়ে যাচ্ছে, এর চেয়ে জঘন্য কাজ এই বংশের লোকেরা এর আগেও করে গেছেন যা ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে। আসুন আমরা চিনে নেই এই সৌদি রাজ বংশ আসলে কারা।

আরবের বড় বড় কাফের আবু লাহাব, আবু জেহেল, আবু সুফিয়ান ছিলো প্রিয় নবীর ঘোর শত্রু। এদের মধ্যে আবু সুফিয়ান ছিলো নবী পাক (স.)-এর জঘন্যতম শত্রু। আরেকজন ঘোরতর শত্রুর নাম ছিলো ওতবা। ওই ওতবার মেয়ের নাম ছিলো হিন্দা। পাপিষ্ঠা রাক্ষসী হিন্দা ওহুদের যুদ্ধে প্রিয় নবী (স.)-এর চাচা হামজার পেট চিরে কলিজা বের করে চিবিয়ে খায় এবং হাত ও নাক কেটে নেয় গলার অলংকার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। ওই কলিজা ভক্ষনকারীর ছেলের নাম মুয়াবিয়া। মুয়াবিয়ার পিতার নাম আবু সুফিয়ান। মহানবীর ঘোর দুশমন আবু সুফিয়ান আর হিন্দার পুত্র মুয়াবিয়া ইসলাম পরবর্তী জীবন ব্যবস্থায় গনিমতের মাল ভক্ষন ও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করা ছাড়া ইসলামের প্রতি ত্যাগ ও মোহাব্বতের একটি দৃষ্টান্তও কেউ দেখাতে পারবেন না। ঈমান (মৌখিক ঈমান) আনার পরও মহানবীর প্রতিষ্ঠিত মহান আদর্শগুলোকে একে একে হত্যা করেছে আর প্রিয় নবীর পবিত্র বংশধররা সে আদর্শ বাচিয়ে রাখার জন্য অকাতরে জীবন কোরবানি দিয়েছেন। মুয়াবিয়ার কুলাঙ্গার পুত্র ইয়াজিদ। 

আরেকটু জেনে রাখুন- ইতিহাসের কালপ্রবাহে বনি কুরাইশ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যায় একটি ইমাইয়া আরেকটি হাশেমী। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহানবী (সা.)-এর আদি পুরুষ হাশিম থেকেই এদুটি গোত্রের মধ্যে জ্ঞাতি বিদ্বেষের বিষাক্ত ধারা প্রবাহিত হয়ে আসছে। হযরত হাশিমের নেতৃত্ব, যোগ্যতা ও প্রতিপত্তির কারনে তৎকালীন কুরাইশে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছিলেন। হযরত হাশিমের নেতৃত্ব ও যোগ্যতা তার ভ্রাতুষ্পুত্র আবদে শামসের পুত্র উমাইয়া কিছুতেই সহ্য করতে পারতো না। হযরত হাশিমের নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয়ার জন্য সবসময় কূট-কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করতো ক্ষমতা লোভি উমাইয়া। আরবের রেওয়াজ অনুযায়ী এই শত্রুতা চলতে থাকে বংশানুক্রমিক ভাবে। হযরত উসমান (রা.) খেলাফতপ্রাপ্ত হলে উমাইয়া নেতারা একে একে খলিফার ঘরে অভ্যর্থনা জানাতে আসছিলেন। আবু সুফিয়ান তখন অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। পথে তিনি সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে বনি উমাইয়া ছাড়া অ্ন্য কেউ নেই তো? হ্যাঁ সূচক উত্তর পাওয়ার পর আবু সুফিয়ান সঙ্গীদের বললেন- দেখো, বহু কষ্ট আর সাধনার পর ক্ষমতা আমাদের হাতে এসেছে। এটাকে বলের ন্যায় বনি উমাউয়ার এক হাত থেকে অন্য হাতে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এটা (খেলাফত) যেনো আর কোনোদিন বনি হাশিমীদের ঘরে ফিরে না যায় (রউফুল হেজাব) আবু সুফিয়ানের পুত্র আমির মুয়াবিয়া ক্ষমতা, মসনদ, ব্যক্তিস্বার্থ ও গোত্রীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করেননি।

আজ চৌদ্দ শো বছর পর আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেছে ইসলামের ঘোর শত্রুদল। তারা নামে মুসলমান। তারা লম্বা জামা পরে। কপালে নামাজের কালো দাগ। মুখে দাড়ি আছে, মাথায় টুপি। আসলে তারা নকল মুসলমান। আজ শিরকের দুহাই দিয়ে প্রিয় নবীর পাক রওজাতে বোলডেজার চালাতে প্রস্তুত। তারা প্রায় ১০০ বছর আগে জান্নাতুল বাকীতে অবস্থিত প্রিয় নবীর আহলে বায়াতের নাম নিশানা মিটিয়ে দিয়েছে সেখানে অবস্থিত সমস্ত রওজাগুলিকে ধ্বংশের মাধ্যমে। তারা এবার প্রিয় নবীর পবিত্র রওজা শরীফের দিকে এগিয়ে আসছে বোলডেজার নিয়ে।

ভাই মুসলমান, শুনে রাখুন- যাদের অন্তরে প্রিয় নবীর প্রেম মহাব্বত নেই, যারা সকলের চেয়ে প্রিয় নবীকে বেশি ভাল না বাসবে তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- একটি শুচের ছিদ্র দিয়ে যদিও একটি উট প্রবেশ করতে সক্ষম হয় কিন্তু তাদের দ্বারা বেহেস্তে প্রবেশ করা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় যাদের অন্তরে প্রিয় নবী মুহাম্মদ মুস্তফা (স.)-এর প্রেম ভক্তি সকল বস্তুর চেয়ে বেশি না হবে। এখন চিন্তা করে দেখুন সৌদিরা আদৌ মহানবীকে ভালবাসেন কিনা। ভালোই যদি বাসতেন তাহলে তারা শিরকের দুহাই দিয়ে প্রিয়নবীর রওজা মোবারকে বোলডেজার চালাতে প্রস্তুত হতো না। নবীর প্রতি মুসলমানদের প্রেম-ভক্তি-ভালবাসা সৌদিদের কাছে শিরক। তাহলে তারা কোন আল্লাহর ইবাদত করে একটু ভেবে দেখুন তো? যে আল্লাহ বলছেন- মুহাম্মদকে সৃ্ষ্টি না করলে এ জগতের কিছুই সৃ্ষ্টি করতাম না। যে এনেছেন নামাজ সেই নামাজ পড়ে পড়ে কপালে কালো দাগ বানিয়ে প্রিয় নবীর সাথে দুশমনি করছেন সৌদি রাজ পরিবার। তারা আবার কেমন মুসলমান (?) তারা কি আদৌ মুসলমান (?)

আপনাদেরকে বলতে চাই, হ্যালো মি. ওহাবী গং আপনারা যারা শিরক শিরক করে চিৎকার করছেন তারা তো ভয়ংকর শিরক করছেন জনাব শয়তানকেও হার মানিয়ে। শয়তানও তো এত বড় পাপ কাজ করে নাই মনে হয় যা আপনারা মি. ওহাবী গং শুরু করেছেন। যাকে সৃষ্টি না করলে কায়েনাতে একটি জলকণাও সৃষ্টির প্রশ্ন ওঠতো না সেই মহানবী হযরত আহাম্মদ মুস্তফা মুহাম্মদ মুস্তফা (স.) এর সম্বন্ধে কথা বলছেন। সাবধান!! যিনি আল্লাহ সাথে স্বশীরিরে মিরাজ করেছেন। জিবরাইল (আ.)-ও যেখানে আর একটু এগুতে পারলেন না। সেই সিদরাতুল মুনতাহা, সৃষ্টির শেষ সীমানা। তখন জিবরাইল বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার আর এক চুল পরিমান সামনে যাওয়ার ক্ষমতা নাই্। আমি আর এক চুল পরিমান এগুলেই জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবো। সুতরাং আপনি একাই এগিয়ে যান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করুন। নবী মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করলেন। তার সাক্ষাত ছিলো দুই ধনুকের ব্যাবধান বা আরো একটু কাছাকাছি। দুই ধনুক বলতে আমরা বুঝি দুটি অর্থ বৃত্ত। দুটি অর্ধ বৃত্তকে একত্রিত করলে দেখা যায় একটি পূর্ন বৃত্ত হয়ে যায়। আল্লাহ আর নবী মুহাম্মদ (স.) যদি একটি পূর্ন বৃত্তের মাঝে আবদ্ধ হয়ে যান তখন আর ফাকা থাকলো কোথায়? কিন্তু তারপরও বলা হয়েছে দুই ধনুকের ব্যাবধান বা আরো কাছাকাছি। আল্লাহর নূরে বিলিন হয়ে গেছেন আল্লাহর হাবীব। এই সমস্ত কথা আপনারাদের কানে ঢুকবে না। কারন, আপনাদের কানগুলোকে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। কোরান পড়ুন। সুরা বাকারাতেই পাবেন আপনাদের কানের সমস্যার কথা। তিনি ওই নবী যিনি আল্লাহর মাহবুব, প্রিয় বন্ধু। যার নামের দরূদ না পাঠ করলে নামাজ পড়তে পড়তে কপালে তিন ইঞ্চি পরিমান কালো কহর ফেলে দিলেও আল্লহর কাছে গ্রহনীয় হবে না ও নামাজ। তিনি ওই রাসুল যিনি হায়াতুল মুরসালিন। তোমরা কী করে বুঝবে নবীকে। তোমরা তো নবী বংশকে ধ্বংশ করে নবীর বংশের দরূদ পাঠ করো। হোসাইন (আ.) এর মস্তক দ্বীখন্ড করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে। তোমরা তো ওই নামাজী যারা তাড়াতাড়ি আসরের নামাজ পড়ে নিলে কারন হোসেইনের মস্তক কেটে আনতে হবে। তোমাদের হৃদয়ে নবী প্রেম নাই। তাই তোমরা প্রিয় নবীর পাক রওয়ায় বোলডেজার চালাতে তোমাদের অন্তর কাপে না। তোমরা তো ইয়াজিদ, তোমরা তো হিন্দার বংশধর। তোমরা আসলে নামে মুসলমান। শুধু শিরক শিরক ধ্বনীতে ব্যবসা বানিজ্য করে যাচ্ছো।



ইমাম হোসাইন শুধু কোনো মাজহাবের নাম নন, কোনো গোত্রের বা দলের নাম নন। মওলা আলী বলেছেন- আমার চোখের জ্যোতি হোসাইন। ফাতেমা যাহারা বলেছেন, আমার কলিজার টুকরা হোসাইন। আমার নবী মুস্তফা বলেছেন, আল হোসাইন মিন্নি ওয়া আনা মিনাল হোসাইন (আমি হোসাইন হতে হোসাইন আমা হতে)। সেই ইমাম হোসেইনকে আপনারা এজিদ পন্থি ওহাবী গং স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করেছেন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেইন বললেন, আলাম তাসমাও আলাইসা ফি কুম মুসলিম? আমার কথা কি শুনতে পাওনা? তোমাদের মাঝে কি একটি মাত্র মুসলমানও নাই? খাজা আজমেরী (রহঃ) যেমন বলেছে, ইমাম হোসাইন আসল এবং নকলের ভাগটি পরিষ্কার করে দেখিয়ে গেলেন। সে রকম অর্থ বহন করেছে ইমামের শেষ ভাষনটিতে, কারন এজিদ সৈন্যবাহিনীতে একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি অথবা অন্য কোনো ধর্মের লোক ছিলো না। সবাই মুসলমান অথচ কি সাংঘাতিক এবং ভয়ংকর ভাষণ, তোমাদের মাঝে কি একটি মুসলমানও নাই? অথচ এজিদের দলের সবাই ছিলো মুসলমান। কিন্তু না, একটিও সত্যকার ও আসল মুসলমান ছিলো না। যারা ছিলো সবাই ছিলো নকল মুসলমান। (বিস্তারিত দেখুন-শানে পাক পাঞ্জাতন - রেজা মাহবুব চিশতীর বইটিতে) 



নবী করিম (স.) বলেছেন, হে ওমর আমি তো চিন্তিত এই ভেবে যে আমার শেষ যামানার উম্মতের মধ্যে এমন এমন লোক থাকবে যারা তুমি ওমরের চেয়েও বেশি পরহেজগার দেখাবে। তাদের দাড়ি লম্বা হবে। গায়ে লম্বা জুব্বা থাকবে। কপালে নামাজের দাগ থাকবে। কিন্তু তাদের মধ্যে ইমান থাকবে না। তাদের ইমান গলার নিচে নামবে না। তারা মুখে বলবে ইমানদার কিন্তু আসলে তারা মুনাফেক। আজ সৌদি সরকার যে পায়তারা করছে আর তা শুনে আমাদের দেশের নাম-কা-ওয়াসতে মুসলমানদের খুশির বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। তারা তো ওই সৌদি বা ওহাবী গংদের পা চাটা কুকুর, এর চেয়ে আর বেশি সম্মান তাদেরকে দিতে পারিনা। নবীর রওজা স্থানান্তর করে যেখানেই নেক না কেনো যাদের অন্তরে নবী প্রেম আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছে তাদের হৃদয়ের আগুন পৃথিবীর কোনো শক্তি নাই যে নিভাতে পারে। তারা প্রিয় নবীর হাদিসটিতে ইচ্ছে মতো কাটছাট করে সাজিয়েছে। এবং চালিয়ে দিয়েছেন মাটির মতো সাদাসিদা মুসলমাদের কাছে। 

আসল ইতিহাস শুনে রাখুন- বিদায় হজ্ব শেষে মক্কা থেকে প্রিয় নবী মদিনার পথে গাদীরে খুম নামক স্থানে উপস্থিত হলেন। ইসলামের ইতিহাসে গাদীরে খুম-এর ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়, যা আজ প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে সব শ্রেনীর মুসলমানদের কাছে ঢাকা পড়ে আছে। কোনো ইসলামী জলসা, মাদ্রাসা, মসজিদের বয়ানে, তাফসির মাহফিলে, মৌলানাদের ওয়াজ-নসিহতে, কোথাও এর আলোচনা নেই। ধর্মপ্রান মুসলমান আজো সঠিক ভাবে জানে না গাদীরে খুম কী? এবং মওলার অভিষেক কেনো? সাম্রাজ্যবাদী রাজশক্তি ও নবীবংশবিরোধী চক্রান্তকারীদের কারসাজিতে অনেক ঐতিহাসিক সত্য আজ ঢাকা পড়ে আছে। আবার ইসলামের নামে অনেক মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী সমাজে প্রচলিত হয়ে আছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু দলমত ও ফেরকার সৃষ্টি হয়েছে। তার খবর অনেকেই রাখেন না। যদিও সাধারনভাবে কোনো জাকজমকপূর্ণ ইসলামী জলসায় এর কোনো আলোচনা চর্চা প্রচলিত নেই্, তবু আজও নবী এবং নবীর আহলে বায়াত (পাক পাঞ্জাতন)-এর সত্যিকার আশেক তারা ১৮ জিলহজ্ব এই দিবসটিকে জীবনের শ্রেষ্ঠ খুশির দিন হিসেবে পালন করে থাকেন। যাদের অন্তরে প্রিয়নবী ও তার পবিত্র বংশধরদের প্রতি মোহাব্বত নেই তাদের ইমান আকিদা পরিশুদ্ধ নয়, এটা কোরানের কথা। সুরা শুরার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলছেন- বলে দিন (হে প্রিয় রাসুল) আমি চাই না তোমাদের এই বিষয়ে (নবুয়াত) প্রচারে আমার নিকটবর্তীগনের (আহলে বায়াতের) মোয়াদ্দত (প্রাণাধিক) ভালোবাসা ব্যতীত যে ব্যক্তি এই আদেশের সদ্ব্যবহার করে আমি তার শ্রী বৃদ্ধি করে থাকি। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহপাক আহলে বায়াতের মোহাব্বত উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন। নবীর আহলে বায়াতের উপর ভালোবাসা উম্মতের ইচ্ছের উপর ছেড়ে দেয়া হয়নি। নবী যে রিসালতের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন আল্লাহ তার বান্দার কাছে থেকে তার পারিশ্রমিক বাবদ নবীর আহলে বায়াতের ভালোবাসাকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। উক্ত আয়াত নাজিল হলে সাহাবীগন জিজ্ঞাস করলেন- ইয়া আল্লাহর রাসুল (স.) কারা আপনার নিকটবর্তী যাদের ভালোবাসা আমাদের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন? উত্তরে নবী করিম (স.) বললেন- আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন। (তফসির করিব/তফসিরে দোররে মানসুর/তফসীর তাবারী/ইয়া নবীউল মোয়াদ্দাত/মুসনদে আহাম্মদ)

গাদীরে খুম নামক স্থানে আয়াতগুলো নাজিল হওয়া মাত্র নবী করিম (স.) থমকে দাড়িয়ে গেলেন এবং যারা বিভিন্ন দিকে চলে গিয়েছিলেন সবাইকে ফিরিয়ে আনার জন্য লোক পাঠালেন। সব লোক জমায়েত হওয়ার পর হামদ ও সালাত সম্পন্ন করলেন। উটের উপর যে গদি ছিলো তার উপর আরো গদি স্থাপন করেলেন যেনো উচু হয়। এরপর শিষ্যবর্গকে বললেন- মুসলমানগন তোমরা কি জনো না যে আমি মোমিনদের নিকট প্রত্যেকের নিজ নিজ আত্মা অপেক্ষাও তোমাদের হিতৈষী বন্ধু। শিষ্যগন বললেন- হে আল্লাহর হাবিব, আমাদের আত্মা অপেক্ষা অধিক প্রিয় সুহৃদ। অতঃপর তিনি তাদের বললেন- হে মুসলমানগন আল্লাহ আমাকে আহ্বান করেছেন, আমিও তার কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তোমরা জানিও যে আমি তোমাদের মধ্যে দুটো সমপরিমান ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি, যদি এ দুটোকে আকড়ে ধরে থাকো তাহলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবেনা। যদি একটিকে ছাড়ো তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। তার প্রথমটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমার আহলে বায়াত (আলী, ফাতেমা, হাসান, হোসাইন) এ দুটো কখনোই পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হবেনা যতক্ষন না হাউজে কাউসারে আমার সাথে মিলিত হবে। তাই লক্ষ্য রেখো তাদের সাথে তোমরা কিরূপ আচরন করবে এটা আমি দেখবো। (সিরাতুন্নবী আল্লামা শিবলী নোমানী/বোখারী/মুসলিম/তিরমিজি মসনদে হাম্বল/তফসিরে কবির/হিলায়তুল আউলিয়া (১ম খন্ড) তফসিরে দোররে মনসুর/উসদুল গাবা। মোল্লাগন এই গুরুত্বপূনূ হাদিসটিকে বলে থাকেন এভাবে- একটি আল্লাহর কিতাব আরেকটি রাসুলের হাদিস। তারা তারা রাসুলের বংশধর তথা পাক পাঞ্জাতন বলতে চান না। রাসুল পাক আরো বললেন- তোমরা জেনে রাখবে খোদাতায়ালা আমার প্রভু আর আমি বিশ্ববাসীর প্রভু। পরে তিনি আলীর হস্ত ধারন করে বলতে লাগলেন- মান কুনতুম মাওলাহু ফাহাজা আলাউন মাওলাহু। আমি যার মওলা আলীও তার মওলা। হে আল্লাহ যে ব্যক্তি তাকে বন্ধু বানায় তুমিও তাকে বন্ধুরূপে গ্রহন করো এবং যে ব্যক্তি আলীর সাথে শক্রতা করে তুমিও তার সঙ্গে শত্রুতা করো। অতপর উমর (রা.) আলীর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন ও অভিনন্দন জানালেন এবং বললেন- স্বাগতম, স্বাগতম হে আবু তালিব সন্তান, প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর মওলা হিসেবে অভিনন্দিত হয়ে তুমি সকাল করবে, সন্ধ্যা করবে। (মেশতাত ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ৫৪৮) ফজলুল করিম/সুসনদে আহম্মদ/তফসীরে দুররে মনসুর/জালাল উদ্দিন সিউতি ২য় খন্ড মিসর/মুসলিম/মোস্তাদরাক হাকিম। এক নরুল ইসলাম ফারুকী শহীদ হয়েছেন আরো লক্ষ লক্ষ ফারুকী মওজুদ আছে এবং থাকবে ইনশা আল্লাহ। ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আজ এত বড় অন্যায় কাজ হাতে নিচ্ছো ইজিদি সৌদি সরকার এর পরিনাম ভয়াবহ যেনো রেখো।



তথ্য সূত্রঃ (১) শানে পাক পাঞ্জাতন – রেজা মাহবুব চিশত

(২) কারবালা ও মুয়াবিয়া – সৈয়দ গোলাম মোরশেদ

(৩) শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান – ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

(৪) কোরানে সালাতের কথা – ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

রাসূল (সা:) কোরান ও আহলে বায়াত কে ধরে রাখতে বলেছেন ।

আমরা জানি হেদায়াতের উৎস দুটি-১.কোরআন এবং ২. হাদিস যেখানে আমরা সাহাবীদের কথাও হাদিসের অর্ন্তভুক্ত মনে করি। হাদিস সাহাবীদের মাধ্যমেই আমাদের নিকট পৌছেছে।সুতরাং তাদের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটলে হাদিস বিতর্কিত হয়ে যায় এবং যেহেতু হাদিসের মাধ্যমেই কোরআন ব্যাখা করা হয়ে থাকে সেহেতু হেদায়াতের দুটি উৎসই পথভ্রষ্টতার কারণ হয়ে পড়ে। অথচ উৎস দুটি খুবই প্রসিদ্ধ যা প্রায় সব মানুষই জানে। তাহলে উম্মতের হেদায়াতের উৎস কি ?
উত্তরঃ আপনি এমন একটি চমৎকার প্রশ্ন করেছেন যার উত্তর সঠিক প্রমাণিত হলে কাঙ্খিত সত্য উদ্ভাসিত হয়ে যাবে। প্রশ্ন করতে গিয়ে আপনি যে আশঙ্কাগুলি করেছেন তা শতভাগ সত্য এবং তা বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখুন। হেদায়েতের জন্য আপনি যে দুটি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন ১. কোরআন ও ২. হাদিস যা একটি বহুল প্রচলিত হাদিস। আসলে প্রচলনের সাথে হাদিসের সত্যতা নির্ভলশীল নয় । আজ পর্যন্ত কেউই এমন শর্ত আরোপ করেননি। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কাছে এ হাদিসটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রাখে এবং তারাই এটিকে বহুল প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
“মালেক ইবনে আনাস বর্ণিত- রাসূল (সাঃ) বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যতদিন আকড়ে ধরবে ততদিন পথভ্্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি আমার সুন্নাহ্ (মিশকাত-১ম খন্ড হাদিস নং-১৭৭)
উক্ত হাদিসটি মিশকাতে মুয়াত্তার বরাতে বর্ণিত। ইমাম মালেক বলেছেন হাদিসটি মুরসাল। তাছাড়া হাদিসটি অন্য কোন গ্রন্থ বা সহীহ সিত্তাতেও নেই। আর মুরসাল হাদিস দলীল হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। অপরপক্ষে হেদায়াতের উৎসের ব্যাপারে নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
“হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) বর্ণিত।তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা ও মদীনার মাঝখানে খোম নামক তালাবের নিকট দাঁড়িয়ে আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন। প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর নানারূপ ওয়াজ ও নসীহত করলেন। অতঃপর বললেন, হে লোকগণ সাবধান! নিশ্চয় আমি একজন মানুষই। শীঘ্রই আমার নিকট আল্লাহর দূত আযরাঈল আগমন করবে। তখন আমি আমার প্রভুর ডাকে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। একটি হল আল্লাহর কিতাব। এর মধ্যে রয়েছে হেদায়াত ও আলো। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। আর দ্বিতীয়টি হল আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে বলছি। (মিশকাত-১১তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৮০,৫৮৯২,৫৮৯৬)
এ হাদিসটি মুসলিম,তিরমিযী,মুসনাদে আহমদ সহ আহলে সুন্নাহ্র বহু গ্রন্থে বিদ্যমান এবং বর্ণনাকারী সাহাবীর সংখ্যা ১১০ জনেরও অধিক। সুতরাং এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস। যে হাদিসের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এবার আপনি বলুন এমন ্একটি সহীহ্ হাদিস রেখে আহলে সুন্নাহ্ কেন সেই মুরসাল হাদিসের প্রচলন এবং তার উপর আমল করে থাকে। আর আহলে সুন্নাতের বহু গ্রন্থে সহীহ্ হাদিসটি থাকা স্বত্বেও কেন সে সম্প্রদায়ের প্রায় শতভাগ মানুষই তা জানে না ? এর উত্তর খুজে পেলেই সত্য প্রকাশিত হবে এবং আপনি খুজে দেখুন কোন জাতি হেদায়েতের উৎস হিসেবে এ সহীহ্ হাদিসটি আমল করে।
প্রশ্নঃ ৫ঃ- আপনি এসব যা বলছেন তাতে আমার মাথা ঘুরাচ্ছে। এসব তো আমিও পড়েছি কিন্তু কখনও এভাবে চিন্তা করিনি। আমি তো আহলে বাইত বলতে নবী (সাঃ) এর পরিবার অর্থাৎ স্ত্রীগণ ও সন্তানকেই বুঝি।আহলে বাইত সমন্ধে নির্ভরযোগ্য আরও বেশি তথ্য প্রয়োজন।
উত্তরঃ ভাই এত তাড়াতাড়ি মাথা ঘুরালে চলবে না,সত্যের জন্য কঠিন ধৈয্যের পরিচয় দিতে হবে। উপরে বর্ণিত হাদিসটি সমাজে প্রচলিত না হওয়াই প্রমাণ করে আহলে বাইতের সাথে কোন নিগুড় রহস্য রয়েছে যে কারণে আহলে বাইত সমন্ধে সমাজ ও জাতিকে অজ্ঞ রাখা হয়েছে। ধামাচাপার মত একটি অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে আহলে বাইতের ব্যাখা ঘুরিয়ে কোন মতে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ইসলামে সত্যকে গোপন করা একটি জঘণ্য ধরনের যুলুম (বাকারা-৪২,৭৭,১৭৪ ইমরান-১৮৭)। যদিও আহলে বাইতের পরিচয় ও অসংখ্য ফযীলত আহলে সুন্নাহ্র বহু গ্রন্থেই বর্ণিত আছে। নিম্নে নির্ভরযোগ্য কিছু তথ্য প্রদান করা হলো।
“হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বর্ণিত-তিনি বলেন, একদিন রাসূল (সাঃ) চাদর গায়ে দিয়ে ঘর হতে বের হলেন এবং আলী ,ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন এলে তাদের সবাইকে চাদরের ভিতর ঢুকালেন এবং বললেন এরাই আমার আহলে বাইত। এরপর কোরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেন-“ হে আহলে বাইত,আল্লাহ তো চান তোমাদেরকে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র রাখতে”(আহযাব-৩৩)। তখন আমি চাদরের ভিতরে আসতে চাইলে তিনি (সাঃ) বলেন-তুমি যে অবস্থায় রয়েছ তাতে উপযুক্ত মর্যাদার সাথেই আছ। আহলে বাইতের পরিচয় সমন্ধে আরও দেখুন মিশকাত শরীফ, ১১ তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৭৫,৫৮৭৬। সাথে কোরআনে বর্ণিত মোবাহিলার ঘটনা সামনে রাখুন (ইমরান-৬১)।”
সুতরাং আহলে বাইত কারা তা কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, এতে জোর করে অন্যদের শামিল করার কোন সুযোগ নেই। আহলে বাইতের মর্যাদা চিন্তা করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। হযরত ফাতেমা (আঃ) যে সমগ্র নারীদের নেত্রী তা কে না জানে। কিন্তু আহলে সুন্নাহ্রা তার নামের পরে (রাঃ) বলে অন্যান্য সাহাবীদের সমান মর্যাদা দেয়। আপনিই চিন্তা করে দেখুন, হযরত মরিয়ম (আঃ) এর নামের পরে (আঃ) বলতে কারো আপত্তি নেই অথচ তারও নেত্রী হযরত ফাতেমা (আঃ)। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনিত বান্দাদের ক্ষেত্রেই এই মর্যাদা যারা নিষ্পাপ। জাহানের সকল নারীদের নেত্রী হওয়ার মর্যাদা কি আল্লাহর পক্ষ হতে ঐশ্বরিক মর্যাদা নয় ? আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুক যারা নারীকূল শিরোমণি নবী (সাঃ) এর দেহের অংশ,যার সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বিদ্যমান সেই হযরত ফাতেমা (আঃ) এর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না করে বরং বিভিন্নভাবে খাট করে সমাজে প্রচার করেছে।
হযরত ফাতেমা (আঃ) এর দু”পুত্র হাসান ও হোসাইন (আঃ) যারা পুরুষ জাতির নেতা, নবী (সাঃ) এর নয়নের পুত্তলি যাদের মর্যাদা উম্মতের বড় অংশই রক্ষা করতে পারেনি। তারা তো নবী (সাঃ) এর মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন , তবে কেন তাদের জীবন-চরিত আহলে সুন্নাহ্র মাঝে প্রচলিত নেই? তাদের বর্ণিত হাদিসও নেই বললেই চলে। তারা কি উম্মতের অনুসরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না ? মহান আল্লাহ যাদেরকে জান্নাতের সর্দার মনোনিত করলেন তারা কি ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্ব নয় ? তবে কেন তাদের নামের পরে আহলে সুন্নাহ্ (আঃ) না বলে (রা) বলে এবং তাদের চেয়েও অন্যান্য সাহাবীদের মর্যাদা বেশি দিয়ে থাকে ? এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব পেলেই সংশয় বিদূরিত হবে।
আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে কেউ আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বললে আহলে সুন্নাহ্দের গাঁ জ্বলে উঠে। অথচ অতীতে অনেক সুন্নি আলেম যেমন ইমাম বুখারী,ইমাম আবু হানিফা যিনি আহলে বাইতের ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) এর ছাত্র ছিলেন তারা সবসময় আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বলেছেন। যেখানে আল্লাহ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এবং তার বংশধরের উপর সালাম প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন (আহযাব-৫৬) এবং আহলে সুন্নাহ্সহ সকল নামাযীরা নামাযের শেষবৈঠকে নবী (সাঃ) ও তার বংশধরের উপর সালাম পড়ে থাকে,সেখানে আলাদাভাবে আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বলতে তাদের সমস্যা কোথায় ? এটি কি আহলে বাইতের নিধনকারী নরপিশাচ ইয়াযিদ ও তার উত্তরসূরীদের রেখে যাওয়া ষড়যন্ত্রের ফলাফল নয় ? আসলে এ যুগের মানুষেরা প্রতারণার শিকার। তারা উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে,কখনও সেই জাল ছিন্ন করে স্বাধীন বিবেক ও মেধাকে কাজে লাগায় না।
এবার রাসূল (সাঃ) এর একটি বাণী লক্ষ্য করূন যদিও এর দলিল আহলে সুন্নাহ্র গ্রন্থে আমি পাইনি তথাপিও কথাগুলোকে কোনভাবেই বিতর্কিত করার সুযোগ নেই-রাসূল (সাঃ) ফাতেমা (আঃ) কে লক্ষ্য করে বলেন-“হে ফাতেমা; তুমি এমন এক ব্যক্তির কন্যা যার সমকক্ষ আগে,পরে ও এখন কেউ নেই, তোমার আছে এমন দুটি সন্তান যাদের সমকক্ষ আর কেউ নেই।”এবার আপনিই বলুন সেই ফাতেমা (আঃ) এর স্বামী যিনি, তার সমকক্ষ কি আর কেউ থাকতে পারে ? ইসলামের ইতিহাসে এমন নজির কোথাও নেই যে, স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর মর্যাদা কম মুমিন হওয়া স্বত্তেও। আর এজন্যই ইসলামে স্বামীকে স্ত্রীর উপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে যে, স্বামীর যোগ্যতা ও মর্যাদা বেশি থাকবে। সুতরাং হযরত আলী (আঃ) ছিলেন আহলে বাইতের প্রধান যার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) বলেছেন-“হে আলী ; মুসা (আঃ) এর কাছে হারূণ (আঃ)এর যে মর্যাদা আমার কাছে তোমার সে মর্যাদা। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে আমার পরে কোন নবী নেই।”( বুখারী-কিতাবুল মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৩৪.মিশকাত,১১তম খন্ড,হাদিস নং-৫৮২৮)‘। উপরের বক্তব্যের সাথে এই হাদিসটির মিল বুঝার জন্য খুব বেশি মেধার দরকার নেই। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে উক্ত সহীহ্ হাদিসটি আহলে সুন্নাহ্র মুখে উচ্চারিত হয় না বললেই চলে । এই হাদিসটি চাপা দেওয়ার জন্য আহলে সুন্নাহ্র অপকৌশলটি লক্ষ্য করুন-তিরমিযী শরীফে বর্ণিত আছে-“রাসূল (সাঃ) বলেছেন-আমার পরে কেউ নবী হলে উমর হত”। ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাদিসটি গরীব। অথচ হাদিসটির এতই প্রচার যে, সুন্নী মাত্রই তা জানে এবং ছোট থেকেই তা শিখে। রাসূল (সাঃ) এর পরে কেউ নবী হলে আলী হতো -এটি সহীহ্ রেওয়ায়েতে বর্ণনা স্বত্বেও কেন আহলে সুন্নাহ্ সেই গরীব হাদিসটির প্রচলন করল ? এখানে কি কোন ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে না ? এমন নজির আরও ভুরিভুরি বিদ্যমান। আরেকটি চমৎকার উদাহরণ লক্ষ্য করুন-আহলে বাইতের অন্যতম দুই ইমাম হাসান ও হোসাইন (আঃ) জান্নাতে যুবকদের সর্দার (এই মর্যাদাকে খাটো করার জন্য আহলে সুন্নাহ্ আরেকটি হাদিস আবিষ্কার করেছে-আবুবকর ও উমর হচ্ছে জান্নাতে প্রৌঢ়দের সর্দার)-একথা কে না জানে যে,জান্নাতে যারা যাবেন তারা সবাই যুবক হয়েই জান্নাতে যাবেন। এ ধরনের কারসাজির উদ্দেশ্য কি ? আহলে বাইতকে ধামাচাপা দেয়া নয় কি ? সুতরাং ইমাম হাসান ও হোসাইন (আঃ) সকল পুরুষদেরই নেতা। আল্লাহ যাদেরকে মর্যাদা দিয়েছেন তা ষড়যন্ত্র করে খাটো করা সম্ভব নয় আর যাদেরকে মর্যাদাহীন করেছেন মিথ্যাচার করে মর্যাদাবান করাও তাদের পক্ষে অসম্ভব । প্রকৃতপক্ষে সত্যবাদিরাই মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।
শুধুমাত্র নবুওয়াতের পার্থক্য ব্যতীত রাসূল (সাঃ) যাকে একজন নবীর মর্যাদা দিলেন তিনিই হতে পারেন নারীকূল সম্রাজ্ঞী হযরত ফাতেমা (আঃ) এর স্বামী। রাসূল (সাঃ) ছিলেন জ্ঞানের ঘর আর আলী (আঃ) হলেন সেই ঘরে প্রবেশের দরজা (মিশকাত-৫৮৩৭)। হাদিসটিকে আহলে সুন্নাহ্ গরীব বলার চেষ্টা করলেও মহান আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন-
“ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই বরং কল্যাণ আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে।”(বাকারা-১৮৯)
হযরত আলী (আঃ) ই সেই ব্যক্তি যার সাথে আল্লাহ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে কথা বলেছেন (মিশকাত,১১তম খন্ড,হাদিস নং-৫৮৩৮) যার সাথে ভালবাসা রাখাকে রাসূল (সাঃ) মূমিন হওয়ার লক্ষণ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার সাথে বিদ্বেষ রাখাকে মুনাফিকী বলেছেন (মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮২৯+৫৮৪১)। কিন্তু ইতিহাস আমাদেরকে জানিয়ে দেয় আলী (আঃ) এর এই মর্যাদা জানার পরও তার সাথে মতভেদের নামে শত্র“তা করা হয়েছে , পরবর্তী জাতির কাছে তার মর্যাদাকে খাট করে প্রচার করা হয়েছে। আলী (আঃ) সেই ব্যক্তি যার সাথে কোন মতবিরোধ চলে না। কেননা তিনিই রাসূল (সাঃ) এর জ্ঞানের উত্তরাধিকারী। গাদীরে খুম নামক জায়গায় বিদায় হজ্বের শেষে ফিরার পথে লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে রাসূল (সাঃ) আলী (আঃ) এর হাত উঁচু করে ঘোষণা করেন-আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা। এ ঘোষণার পর আলী (আঃ) এর সাথে হযরত উমরের দেখা হলে উমর তাকে বলেন-ধন্যবাদ হে আবু তালিবের পুত্র! তুমি সবসময়ের জন্য প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের মাওলা হয়েছ (মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৪৪)।
রাসূল (সাঃ) ও আলী (আঃ) পরস্পরে এতই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, রাসূল (সাাঃ) বলেছেন-“আলী আমার নিকট হতে আর আমি আলী হতে। আর আমার পক্ষ হতে কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না আমি বা আলী ব্যতীত।”(মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৩৩)। রাসূল (সাঃ) তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরূত্ব দিতেন যাকে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত বানাবেন আর তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন। উপরে বর্ণিত মর্যাদা আলী (আঃ) ব্যতীত অন্য কারো ছিল না। তাহলে রাসূল (সাঃ) এর পর তার পক্ষ থেকে উম্মতের দায়িত্ব কে গ্রহণ করবেন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ এ বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব।
রাসূল (সাঃ) এর কাছে সবচেয়ে কে বেশি প্রিয় ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আহলে সুন্নাহ্র আলেমরা চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই মুখুস্থ নাম বলে দেন। যদিও এর পক্ষে তাদের দলিলও রয়েছে। তাদের আবিস্কৃত দলিলের কথা পূর্বে কিছুটা বলেছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত বলার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। এবার রাসূল (সাঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় কে ছিল তা লক্ষ্য করুন-হযরত জুমাঈ ইবনে উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি আমার ফুফুর সাথে উম্মুল মূমিনিন হযরত আয়েশার নিকট গেলাম। আমি জিজ্ঞাস করলাম,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট কোন ব্যক্তি সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন ? তিনি বললেন,ফাতেমা! তারপর জিজ্ঞাসা করা হলো,পুরূষদের মধ্যে কে ? তিনি বললেন, তার স্বামী (আলী (আঃ)।(মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৯৫)
এই রেওয়ায়েতের সমান্তরালে যেসব নতূন আবিস্কৃত রেওয়ায়েত সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তাতে সাধারন মানুষ তো বিভ্রান্ত হবেই, এমনকি অনেক বড় বড় আলেমও গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং গবেষণা ব্যতীত বিভ্রান্ত হয়ে আসছেন। সত্যকথা হলো আহলে সুন্নাহর আলেম-ওলামাগণ এসব ব্যাপরে কোন আগ্রই দেখায় না বরং অতীতের প্রতিষ্ঠিত ষড়যন্ত্রেরই প্রসার ঘটাচ্ছেন। আমি বেশ কিছু আলেমের সাথে কথা বলেছি তাতে তারা আহলে বাইত এবং তাদের অনুসারীদের ব্যাপারে চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু যে ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই সে ব্যাপারে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তারা সমাজে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। একবারও ভাবেন না আমরা যাদের ব্যাপারে যে সকল অভিযোগ সমাজে প্রচার করছি তা যদি সত্য না হয় তাহলে মহান আল্লাহর দরবারে মিথ্যা-অপবাদকারীদের শামিল হয়ে যাব এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ হয়ে গেলে সমাজের মানুষের কাছেও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হতে হবে। আজ ইসলামের দুশমনেরা চতুর্দিক দিক থেকে যেভাবে ষড়যন্ত্র করছে তা মোকাবিলা না করে তাওহীদবাদীরা নিজেদের মধ্যেই মুর্খতার পরিচয় দিচ্ছে। এ যুগের মানুষেরা যারা ইসলামকে ভালবাসে তাদের ভালবাসায় কোন কালিমা নেই, তারা আজ মিথ্যাচার করছে তাও ইসলামকে ভালবাসার কারনেই। শুধুমাত্র জ্ঞানের অভাব,চিন্তা-গবেষণার অভাব। আজও তাওহীদবাদী সকল মুসলমান এক কাতারে শামিল হওয়া সম্ভব। এতে শুধু মুক্ত-বুদ্ধি ও উদারতার প্রয়োজন।
উপরে আহলে বাইত ও তাদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা শুধুমাত্র আহলে সুন্নাহর সুত্র থেকে। এছাড়াও অসংখ্য হাদিস রয়েছে যা আহলে সুন্নাহর গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়নি। কেননা পবিত্র আহলে বাইত কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহ আহলে সুন্নাহ তেমন কিছুই বর্ণনা করেনি বরং আহলে বাইতের পক্ষে যায় এমন হাদিসকে তারা কাট-ছাট করে,শব্দ পরিবর্তন করে,নতুন হাদিস বানিয়ে তাদের গ্রন্থ পূর্ণ করেছে। এর মধ্যেও কিছূ সত্য রয়েছে যার মাধ্যমে আমি দলিল প্রদান করেছি। হাদিসের কারসাজি নিয়ে পরে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
এবার হাদিসে সাকালাইন অর্থাৎ ভারি বস্তুর (কোরআন ও আহলে বাইত) হাদিসের কথা চিন্তা করুন। এ দুটি বস্তু পরস্পর থেকে কখনই বিচ্ছিন্ন হয়েছে কি ? না, হাউজে কাউসারে রাসূল (সাঃ) এর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবে না। আহলে বাইতের যে ১২ জন ইমামের কথা রাসূল (সাঃ) বলেছেন তাদের ১১ জন যারা গত হয়েছেন সমকালীন সময়ে তাদের মত জ্ঞানী, পরহেযগার এবং উচ্চ মর্তবার মানুষ অন্য কেউ ছিল কি ? ইতিহাস পড়ে দেখুন। এই ১২জন ইমামের কথা সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে ১২জন খলীফা হিসেবে। চিন্তা করে দেখুন ইসলামের খলীফা হিসেব করলে ছয় নম্বর খলীফা হবেন ইয়াযীদ যার হাতে ইসলামের রক্ষাকারী ইমাম,তার পরিবার ও সহযোগীরা শহীদ হয়েছেন অথচ রাসূল (সাঃ) যাদের কথা বলেছেন তাদের হাতে ইসলামের সম্মান নিহীত। সুতরাং বুখারীর কারসাজির বর্ণনায় ১২জন খলীফা না হয়ে ১২জন ইমাম হবে। পক্ষান্তরে সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই রাসূল (সাঃ) এর মৃত্যুর পর কোরআনের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। সুতরাং তাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুন্নাহ আর আহলে বাইতের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুন্নাহ এক হতে পারে না। আজকে হাদিসের নামে যেসব পরস্পরবিরোধী কথা প্রচলিত রয়েছে তার মূল রহস্য এখানেই। কিছু বিপদগামী সাহাবীকে রক্ষা করতে গিয়ে আহলে সুন্নাহর আলেম-ওলামারা একবারও ভাবেন না যে এর মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) কে বিতর্কিত করার দরজা উম্মুক্ত করা হচ্ছে।
পবিত্র আহলে বাইত হচ্ছে নবী (সাঃ) এর রিসালাতের বিনিময়। এ মর্যাদা আল্লাহ স্বয়ং ঘোষণা করেছেনÑ
“বলুন, আমি আমার রিসালাতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কিছুই চাই না আমার নিকট আতœীয়ের(আহলে বাইত) ভালবাসা ছাড়া” (শুরা-২৩)।
আহলে বাইতের সন্তুষ্টির মধ্যেই রাসুল (সাঃ) এর সন্তুষ্টি নিহীত (বুখারী,কিতাবুর মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৪০,৩৪৪১)। আহলে বাইতই হলো রাসূল (সাঃ) এর পরে একমাত্র পবিত্র আদর্শ এবং উম্মতের নির্ভুল মানদন্ড। সুতরাং কোরআন এবং জীবন্ত কোরআন আহলে বাইতের পথই হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকীমের পথ। রাসূল (সাঃ) বলেছেনÑÑÑ“আমার আহলে বাইত হচ্ছে নূহ (আঃ) এর নৌকার ন্যায় যারা এতে আরোহন করবে তারাই মুক্তি পাবে আর যারা আরোহন করবে না তারা ধ্বংস হবে।” (মিশকাত ১১তম খন্ড.হাদিস নং-৫৯২৩) এখন আপনিই বলুন যারা এ নৌকার পরিচয়ই জানে না তাদের অবস্থা কী হবে ?
প্রশ্ন-৬ঃÑ সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ পাক আমাকে আহলে বাইতকে ভালভাবে বুঝার তৌফিক দান করুক। আপনার আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে আহলে বাইত এবং সাহাবায়ে কেরাম পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। যদি তা না হয় তাহলে দুটি ধারা কিভাবে হলো একটি আহলে বাইত অন্যটি সাহাবায়ে কেরাম ?
উত্তর ঃÑঅবশ্যই না। আমি পূর্বেই বলেছি সাহাবীদের সবাই একই মানের ছিলেন না। আহলে বাইতের অনুসারী সাহাবীও ছিলেন। এটিও চক্রান্তের ফলস্বরূপ প্রচারণায় আসেনি। যেমন রাসূল (সাঃ) এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরহেযগার সাহাবী হযরত আবুযর গিফারী (রাঃ),হযরত সালমান ফারেসী (রাঃ),হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) (যার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে আম্মার বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হবে এবং তা পরবর্তীতে সিফফীনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার হাতে বাস্তবায়িত হয়),হযরত মিকদাদ (রাঃ) ও হযরত বেলাল (রাঃ) এদের মত আর কেউ আছে কি যারা ইসলামের জন্য তাদের চেয়েও বেশি ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন ? তবে কেন রাসূল(সাঃ) এর ওফাতের পর উক্ত সাহাবীদের কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না বা তাদের প্রচারই বা এত কম কেন ?
সাহাবীদের মধ্যে একটি বিভক্তির সৃষ্টি হয় রাসূল (সাঃ) এর মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্ব থেকেই। বৃহস্পতিবার রাত্রি!!! যে রাত্রির কথা স্মরণ করে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এত পরিমাণ কাঁদতেন যে তার অশ্র“ জমিন পর্যন্ত গড়িয়ে পড়তো এবং বলতেন Ñহায় বৃহস্পতিবার!!! এ রাতেই ইসলাম ধ্বংস হয়ে গেলো। কি এমন ঘটনা সে রাত্রে ঘটলো যে কারণে ইবনে আব্বাস ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা করলেন। ঘটনাটি বুখারী কাটছাট করেছেন এবং বক্তব্য পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু মুসলিম শরীফে বিস্তারিত রয়েছে এবং দেখুন বুখারী,কিতাবুল জিহাদ-২৯৩৩+৪০৮৫,৪০৮৬নং হাদিস এবং মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৭১৪নং হাদিস।
সেই রাতে রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধাচারণ এবং প্রলাপ বকার অপবাদ আরোপের মাধ্যমে যারা মৃত্যূর আগে রাসূল (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলেন ঠিক তাদের বিপরীতে সত্যপন্থী এবং রাসূল প্রেমিক সাহাবীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে ঘরের মধ্যেই বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে রাসূল (সাঃ) রাগান্বিত হয়ে সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং একবুক কষ্ট বুকে নিয়ে বলেনÑতোমরা আমাকে যে দিকে আহ্বান করছ (অর্থাৎ পাগল হওয়ার অপবাদ) তা থেকে আমার রব আমাকে অনেক উত্তম রেখেছেন। ইসলামের ইতিহাসের কালো রাত্রি হিসেবে পরিচিত এ বৃহস্পতিবার রাত্রের এ ঘটনার মূল বিষয়বস্তু কি ছিল এবং এ কলঙ্কজনক ঘটনার মূল নায়ক কে বা কারা ছিল তা না জেনেই যারা ইসলাম বুঝতে চায় তাদের পক্ষে সিরাতে-মুস্তাকীমের পথ পাওয়া সম্ভব নয়। কষ্ট করে ঘটনাটি পড়ে নিন।
অতএব আহলে বাইত এবং তাদের অনুসারী সাহাবীরাই ছিলেন ইসলামের খাঁটি মানব। আহলে বাইতকে ভালবাসার পর অর্থাৎ আহলে বাইতের পরিচয় ও মর্যাদা জানার পরও কি তাদের প্রতি ভালবাসা অন্তরে অবশিষ্ট থাকে যারা আহলে বাইতের দুশমন ছিল। যারা নবীর বংশকে চিরতরে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রে মাতাল ছিল। যার পূর্ণ প্রতিফলন আমরা কারবালায় দেখতে পাই। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে বুঝা কঠিন হবে না যে,বৃহস্পতিবার, সিফফীন, জঙ্গে-জামাল এবং কারবালা সবই একই সুতোয় গাথা।
সুতরাং পবিত্র আহলে বাইতের সাথে যাদের শত্র“তার সম্পর্ক ছিল এবং যাদের প্রতি আহলে বাইত (আঃ) অসন্তুষ্ট ছিলেন তারা ক্ষমতা দখল করে নিজেদের মত করে যতই উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক না কেন আল্লাহর কাছে ভয়ঙ্কর বিপদ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা জানি নারীকূল শিরোমণি হযরত ফাতেমা (আঃ) কারো কারো প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের সাথে কথা বলেননি। তিনি হযরত আলী (আঃ) কে ওছিয়ত করে গিয়েছিলেন যাতে তাকে রাতের অন্ধকারে গোপনে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করা হয় যেন যাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন তারা জানযায় অংশগ্রহণ না করতে পারেন (বুখারী.কিতাবুল জিহাদ-২৮৬৩)। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি পরবর্তীদের জন্য একটি রহস্য রেখে গেলেন যাতে তা উদঘাটনের মধ্যেই মানুষ সত্য খুজে পায়। রাসূল (সাঃ) এর সেই হাদিসটি লক্ষ্য করুনÑ“ফাতেমা আমার দেহেরই একটা অংশ । যে ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে আমাকেই কষ্ট দেয়”(বুখারী,কিতাবুর মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৪১)।
তাই সত্যপ্রেমিকদের জানতে হবে কারা ফাতেমা (আঃ) কে কষ্ট দিয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে আশা করি সাহাবীদের ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে,যেহেতু ইতিহাসের অনেক ঘটনাই ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হয়নি, সেহেতু মানুষ তা জানতে পারলে প্রকৃত সত্য উম্মোচিত হবে,তাই মানুষ যাতে ঐ সত্য ঘটনাগুলো না জানতে পারে অথবা জানার চেষ্টাও যাতে না করে সেজন্য বিভিন্ন মিথ্যা প্রচার এবং রাসূল (সাঃ) এর নামে হাদিস বানিয়ে জাতিকে ভীত বিহ্বল করে রাখা হয়েছে যে সাহাবীদের নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না,বললে ঈমান থাকবে না ইত্যাদি আরও অনেক কিছু।যেহেতু দ্বন্দ্ব নিশ্চিত সেহেতু নিজেকে রক্ষার প্রচেষ্টা কে না করে? সত্যবাদীর জন্য তার সত্যবাদিতাই যথেষ্ট। তাই বলে মিথ্যাবাদী কি বসে থাকে? তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যত প্রকার মিথ্যার ও কৌশলের আশ্রয় প্রয়োজন,তার সবই সে গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় সত্যেরই হয়। এ বাস্তবতা অবশ্যই সামনে রাখতে হবে।
প্রশ্ন-৭ঃÑ আপনি কত সহজে এত বড় বড় বিষয় বলে ফেললেন। অথচ বিষয়গুলো এত সহজ নয়। তাহলে বর্তমানে আহলে বাইতের সঠিক অনুসারী কারা ?
উত্তরঃÑ আসলে এসব কথা এত সহজে আমিও আগে বলতে পারতাম না। কিন্তু সত্য যখন দিবালোকের মত প্রতিভাত হয় তখন সত্য প্রকাশ করতে আর দ্বিধাবোধ করি না। তাছাড়া এসব তো আর আমি নিজে থেকে বলছি না বরং কোরআন-হাদিস থেকে খুজে বের করে শুধুমাত্র তুলে ধরছি। কোথাও ভুল থাকলে এবং তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে পারলে আমি তা সাদরে গ্রহণ করব। আপনি জানতে চেয়েছেন বর্তমানে আহলে বাইতের অনুসারী কোন জাতি। আসলে আহলে বাইতের অনুসারী পৃথিবীর সবজায়গায়ই কমবেশি বিদ্যমান তথাপি রাসূল (সাঃ) এর একটি হাদিস দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরছি। পবিত্র কোরআনের সূরা মুহম্মদের ৩৮ নং আযাতটি যখন নাযিল হয়-“তোমরা যদি দ্বীন হতে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আল্লাহ তোমাদের পরিবর্তে এমন এক জাতিকে পাঠাবেন যারা তোমাদের মত হবে না”। তখন আবু হুরাইরা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন-ইয়া রাসুলুল্লাহ! তারা কোন জাতি যারা আমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আমাদের মত হবে না ? রাসূল (সাঃ) তার পাশে হযরত সালমান ফারেসীর উরুতে হাত মেরে বললেন, সে ও তার জাতি। যদি ঈমানের নূর সপ্তম আকাশের শলাকাতেও অবস্থান করে তবুও পারস্যের কিছু লোক সেখানে পৌছে যাবে” (মিশকাত,১১তমখন্ড,হাদিস নং-৫৯৯৩)।
“বলুন ,সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে আর মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ার জন্যই” (বনী-ইসরাঈল-৮১)।

বিঃ দ্রঃ এখানে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে আরো বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হবে, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা সম্ভব কিন্তু প্রশ্নকারীর অতীত বিশ্বাসের পক্ষে কয়টা যুক্তি ও প্রমাণ রয়েছে তাও ভেবে দেখা উচিত। তাহলে অল্প প্রশ্নেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছা যাবে।
# এখানে ঐসব রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হয়েছে যা আহলে সুন্নাহসহ সবার মধ্যে বিদ্যমান। সুতরাং পক্ষপাতমূলক দলীল যা নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তৈরি তা গ্রহণযোগ্য নয়।
34ali obihabokallahr songe kothsa bolamadrezin nubuaat 3 no khondo 105 pagemuslim sharif taj prokasonitirmizi-6-khodno-332 page12

বায়াত বা তরীকা গ্রহণ সর্ম্পকে পাক কোরআন শরীফে উল্লেখ আছে কি?

বায়াত বা তরীকা গ্রহণ করা কোরঅান হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত :-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ১. আয়াত : “লাক্কাদ রাদি আল্লাহু আনিল মুমেনিনা এজ ইউবা ইউনাকা তাহ্ তাস সাজারাতে ফা আলেমা মাফিকুলুবিহিম ফাআন জালাচ্ছাকিনাতা আলাইহিম ওয়া আছাবাহুম ফাতাহান কারিবা “- সুরা ফাতাহ আয়াত-১৮। অর্থ:নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসলমানদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহিস সালাম)এর হাতে গাছের নিচে বায়াত গ্রহণ করছিল। ফলত: তিনি তাদের অন্ত: করণে যে সততা ও কৃতজ্ঞতা বিরাজ করছিল তা অবগত হয়েছেন। অত:পর তাদের প্রতি তিনি শান্তি অবতরণ করেছেন এবং তাদেরকে শীঘ্রই বিজয় দানে পুরস্কৃত করেছেন। ২.অায়াত : “ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানোত্তাকুল্লাহা ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওয়াছিলাতা ওয়া জাহিদু ফি ছাবিলিল্লাহি লায়াল্লাকুম তুফলেহুন”- সুরা মায়েদা আয়াত-৩৫। অর্থ: হে আমানুগণ। আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং আল্লাহকে চেনার জন্য ওছিলা তালাশ কর। এবং আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ কর। এতেই তোমাদের সাফল্য। ৩.আয়াত: “ইন্নাল্লাজিনা ইউবায়ি উনাল্লাহা ইয়াদুল্লাহে ফাউকা আইদিহিম”- সুরা ফাতাহ আয়াত-১০। অর্থ: যারা আপনার হাতে হাত দিয়ে বায়াত হয়েছে হে রাসুল (সাল্লাল্লাহুআলাইহিস সালাম) অবশ্যই তারা আল্লাহর হাতে হাত দিয়ে আহলে বায়াত গ্রহণ করেছে। তাদের হাতের উপর আপনার হাত। ৪. আয়াত:”মাই ইউতের রাসুলা ফাক্কাদ আতা আল্লাহ”- সুরা নেসা আয়াত-৮০। অর্থ : যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করলো সে আমারই (আল্লাহর) আনুগত্য করলো। ৫.আয়াত:”কুল ইনকুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহে ফাত্তাবেউনি ইউবিকুমুল্লাহ”-সুরা আল এমরান আয়াত-৩১। অর্থ: তোমরা যদি আমাকে ভালবাসিতে চাও তবে আমার নবীকে ভালবাস। নবীকে ভালবাসলেই আমাকে ভালবাসা হবে। ৬.আয়াত:”ওয়া আতিউল্লাহা ওয়া আতিউর রাসুলা ওয়া উলিল আমরি মিনকুম”- সুরা নিসা আয়াত-৫৯। অর্থ: আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসুলের এবং তার প্রতিনিধির। মহিলাদিগকে বায়াত করার দলিল “ফাবায়হুন্নাআস্ তাগফেরলা হুন্নাল্লাহা”-সুরা মোমতাহেনা আয়াত-১২। অর্থ : হে নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহিস সালাম) আপনি মহিলাদিগকে বায়াত করুনএবং তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিন।

রজবের ২৭ তারিখের আমল

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজার বিষয়ে সহীহ হাদীছ সনদ সহকারে।   أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو ن...