উত্তরঃ আপনি এমন একটি চমৎকার প্রশ্ন করেছেন যার উত্তর সঠিক প্রমাণিত হলে কাঙ্খিত সত্য উদ্ভাসিত হয়ে যাবে। প্রশ্ন করতে গিয়ে আপনি যে আশঙ্কাগুলি করেছেন তা শতভাগ সত্য এবং তা বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখুন। হেদায়েতের জন্য আপনি যে দুটি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন ১. কোরআন ও ২. হাদিস যা একটি বহুল প্রচলিত হাদিস। আসলে প্রচলনের সাথে হাদিসের সত্যতা নির্ভলশীল নয় । আজ পর্যন্ত কেউই এমন শর্ত আরোপ করেননি। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কাছে এ হাদিসটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রাখে এবং তারাই এটিকে বহুল প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
“মালেক ইবনে আনাস বর্ণিত- রাসূল (সাঃ) বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যতদিন আকড়ে ধরবে ততদিন পথভ্্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি আমার সুন্নাহ্ (মিশকাত-১ম খন্ড হাদিস নং-১৭৭)
উক্ত হাদিসটি মিশকাতে মুয়াত্তার বরাতে বর্ণিত। ইমাম মালেক বলেছেন হাদিসটি মুরসাল। তাছাড়া হাদিসটি অন্য কোন গ্রন্থ বা সহীহ সিত্তাতেও নেই। আর মুরসাল হাদিস দলীল হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। অপরপক্ষে হেদায়াতের উৎসের ব্যাপারে নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
“হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) বর্ণিত।তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা ও মদীনার মাঝখানে খোম নামক তালাবের নিকট দাঁড়িয়ে আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন। প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর নানারূপ ওয়াজ ও নসীহত করলেন। অতঃপর বললেন, হে লোকগণ সাবধান! নিশ্চয় আমি একজন মানুষই। শীঘ্রই আমার নিকট আল্লাহর দূত আযরাঈল আগমন করবে। তখন আমি আমার প্রভুর ডাকে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। একটি হল আল্লাহর কিতাব। এর মধ্যে রয়েছে হেদায়াত ও আলো। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। আর দ্বিতীয়টি হল আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে বলছি। (মিশকাত-১১তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৮০,৫৮৯২,৫৮৯৬)
এ হাদিসটি মুসলিম,তিরমিযী,মুসনাদে আহমদ সহ আহলে সুন্নাহ্র বহু গ্রন্থে বিদ্যমান এবং বর্ণনাকারী সাহাবীর সংখ্যা ১১০ জনেরও অধিক। সুতরাং এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস। যে হাদিসের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এবার আপনি বলুন এমন ্একটি সহীহ্ হাদিস রেখে আহলে সুন্নাহ্ কেন সেই মুরসাল হাদিসের প্রচলন এবং তার উপর আমল করে থাকে। আর আহলে সুন্নাতের বহু গ্রন্থে সহীহ্ হাদিসটি থাকা স্বত্বেও কেন সে সম্প্রদায়ের প্রায় শতভাগ মানুষই তা জানে না ? এর উত্তর খুজে পেলেই সত্য প্রকাশিত হবে এবং আপনি খুজে দেখুন কোন জাতি হেদায়েতের উৎস হিসেবে এ সহীহ্ হাদিসটি আমল করে।
প্রশ্নঃ ৫ঃ- আপনি এসব যা বলছেন তাতে আমার মাথা ঘুরাচ্ছে। এসব তো আমিও পড়েছি কিন্তু কখনও এভাবে চিন্তা করিনি। আমি তো আহলে বাইত বলতে নবী (সাঃ) এর পরিবার অর্থাৎ স্ত্রীগণ ও সন্তানকেই বুঝি।আহলে বাইত সমন্ধে নির্ভরযোগ্য আরও বেশি তথ্য প্রয়োজন।
উত্তরঃ ভাই এত তাড়াতাড়ি মাথা ঘুরালে চলবে না,সত্যের জন্য কঠিন ধৈয্যের পরিচয় দিতে হবে। উপরে বর্ণিত হাদিসটি সমাজে প্রচলিত না হওয়াই প্রমাণ করে আহলে বাইতের সাথে কোন নিগুড় রহস্য রয়েছে যে কারণে আহলে বাইত সমন্ধে সমাজ ও জাতিকে অজ্ঞ রাখা হয়েছে। ধামাচাপার মত একটি অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে আহলে বাইতের ব্যাখা ঘুরিয়ে কোন মতে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ইসলামে সত্যকে গোপন করা একটি জঘণ্য ধরনের যুলুম (বাকারা-৪২,৭৭,১৭৪ ইমরান-১৮৭)। যদিও আহলে বাইতের পরিচয় ও অসংখ্য ফযীলত আহলে সুন্নাহ্র বহু গ্রন্থেই বর্ণিত আছে। নিম্নে নির্ভরযোগ্য কিছু তথ্য প্রদান করা হলো।
“হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বর্ণিত-তিনি বলেন, একদিন রাসূল (সাঃ) চাদর গায়ে দিয়ে ঘর হতে বের হলেন এবং আলী ,ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন এলে তাদের সবাইকে চাদরের ভিতর ঢুকালেন এবং বললেন এরাই আমার আহলে বাইত। এরপর কোরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেন-“ হে আহলে বাইত,আল্লাহ তো চান তোমাদেরকে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র রাখতে”(আহযাব-৩৩)। তখন আমি চাদরের ভিতরে আসতে চাইলে তিনি (সাঃ) বলেন-তুমি যে অবস্থায় রয়েছ তাতে উপযুক্ত মর্যাদার সাথেই আছ। আহলে বাইতের পরিচয় সমন্ধে আরও দেখুন মিশকাত শরীফ, ১১ তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৭৫,৫৮৭৬। সাথে কোরআনে বর্ণিত মোবাহিলার ঘটনা সামনে রাখুন (ইমরান-৬১)।”
সুতরাং আহলে বাইত কারা তা কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, এতে জোর করে অন্যদের শামিল করার কোন সুযোগ নেই। আহলে বাইতের মর্যাদা চিন্তা করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। হযরত ফাতেমা (আঃ) যে সমগ্র নারীদের নেত্রী তা কে না জানে। কিন্তু আহলে সুন্নাহ্রা তার নামের পরে (রাঃ) বলে অন্যান্য সাহাবীদের সমান মর্যাদা দেয়। আপনিই চিন্তা করে দেখুন, হযরত মরিয়ম (আঃ) এর নামের পরে (আঃ) বলতে কারো আপত্তি নেই অথচ তারও নেত্রী হযরত ফাতেমা (আঃ)। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনিত বান্দাদের ক্ষেত্রেই এই মর্যাদা যারা নিষ্পাপ। জাহানের সকল নারীদের নেত্রী হওয়ার মর্যাদা কি আল্লাহর পক্ষ হতে ঐশ্বরিক মর্যাদা নয় ? আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুক যারা নারীকূল শিরোমণি নবী (সাঃ) এর দেহের অংশ,যার সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বিদ্যমান সেই হযরত ফাতেমা (আঃ) এর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না করে বরং বিভিন্নভাবে খাট করে সমাজে প্রচার করেছে।
হযরত ফাতেমা (আঃ) এর দু”পুত্র হাসান ও হোসাইন (আঃ) যারা পুরুষ জাতির নেতা, নবী (সাঃ) এর নয়নের পুত্তলি যাদের মর্যাদা উম্মতের বড় অংশই রক্ষা করতে পারেনি। তারা তো নবী (সাঃ) এর মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন , তবে কেন তাদের জীবন-চরিত আহলে সুন্নাহ্র মাঝে প্রচলিত নেই? তাদের বর্ণিত হাদিসও নেই বললেই চলে। তারা কি উম্মতের অনুসরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না ? মহান আল্লাহ যাদেরকে জান্নাতের সর্দার মনোনিত করলেন তারা কি ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্ব নয় ? তবে কেন তাদের নামের পরে আহলে সুন্নাহ্ (আঃ) না বলে (রা) বলে এবং তাদের চেয়েও অন্যান্য সাহাবীদের মর্যাদা বেশি দিয়ে থাকে ? এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব পেলেই সংশয় বিদূরিত হবে।
আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে কেউ আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বললে আহলে সুন্নাহ্দের গাঁ জ্বলে উঠে। অথচ অতীতে অনেক সুন্নি আলেম যেমন ইমাম বুখারী,ইমাম আবু হানিফা যিনি আহলে বাইতের ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) এর ছাত্র ছিলেন তারা সবসময় আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বলেছেন। যেখানে আল্লাহ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এবং তার বংশধরের উপর সালাম প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন (আহযাব-৫৬) এবং আহলে সুন্নাহ্সহ সকল নামাযীরা নামাযের শেষবৈঠকে নবী (সাঃ) ও তার বংশধরের উপর সালাম পড়ে থাকে,সেখানে আলাদাভাবে আহলে বাইতের নামের পরে (আঃ) বলতে তাদের সমস্যা কোথায় ? এটি কি আহলে বাইতের নিধনকারী নরপিশাচ ইয়াযিদ ও তার উত্তরসূরীদের রেখে যাওয়া ষড়যন্ত্রের ফলাফল নয় ? আসলে এ যুগের মানুষেরা প্রতারণার শিকার। তারা উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে,কখনও সেই জাল ছিন্ন করে স্বাধীন বিবেক ও মেধাকে কাজে লাগায় না।
এবার রাসূল (সাঃ) এর একটি বাণী লক্ষ্য করূন যদিও এর দলিল আহলে সুন্নাহ্র গ্রন্থে আমি পাইনি তথাপিও কথাগুলোকে কোনভাবেই বিতর্কিত করার সুযোগ নেই-রাসূল (সাঃ) ফাতেমা (আঃ) কে লক্ষ্য করে বলেন-“হে ফাতেমা; তুমি এমন এক ব্যক্তির কন্যা যার সমকক্ষ আগে,পরে ও এখন কেউ নেই, তোমার আছে এমন দুটি সন্তান যাদের সমকক্ষ আর কেউ নেই।”এবার আপনিই বলুন সেই ফাতেমা (আঃ) এর স্বামী যিনি, তার সমকক্ষ কি আর কেউ থাকতে পারে ? ইসলামের ইতিহাসে এমন নজির কোথাও নেই যে, স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর মর্যাদা কম মুমিন হওয়া স্বত্তেও। আর এজন্যই ইসলামে স্বামীকে স্ত্রীর উপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে যে, স্বামীর যোগ্যতা ও মর্যাদা বেশি থাকবে। সুতরাং হযরত আলী (আঃ) ছিলেন আহলে বাইতের প্রধান যার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) বলেছেন-“হে আলী ; মুসা (আঃ) এর কাছে হারূণ (আঃ)এর যে মর্যাদা আমার কাছে তোমার সে মর্যাদা। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে আমার পরে কোন নবী নেই।”( বুখারী-কিতাবুল মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৩৪.মিশকাত,১১তম খন্ড,হাদিস নং-৫৮২৮)‘। উপরের বক্তব্যের সাথে এই হাদিসটির মিল বুঝার জন্য খুব বেশি মেধার দরকার নেই। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে উক্ত সহীহ্ হাদিসটি আহলে সুন্নাহ্র মুখে উচ্চারিত হয় না বললেই চলে । এই হাদিসটি চাপা দেওয়ার জন্য আহলে সুন্নাহ্র অপকৌশলটি লক্ষ্য করুন-তিরমিযী শরীফে বর্ণিত আছে-“রাসূল (সাঃ) বলেছেন-আমার পরে কেউ নবী হলে উমর হত”। ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাদিসটি গরীব। অথচ হাদিসটির এতই প্রচার যে, সুন্নী মাত্রই তা জানে এবং ছোট থেকেই তা শিখে। রাসূল (সাঃ) এর পরে কেউ নবী হলে আলী হতো -এটি সহীহ্ রেওয়ায়েতে বর্ণনা স্বত্বেও কেন আহলে সুন্নাহ্ সেই গরীব হাদিসটির প্রচলন করল ? এখানে কি কোন ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে না ? এমন নজির আরও ভুরিভুরি বিদ্যমান। আরেকটি চমৎকার উদাহরণ লক্ষ্য করুন-আহলে বাইতের অন্যতম দুই ইমাম হাসান ও হোসাইন (আঃ) জান্নাতে যুবকদের সর্দার (এই মর্যাদাকে খাটো করার জন্য আহলে সুন্নাহ্ আরেকটি হাদিস আবিষ্কার করেছে-আবুবকর ও উমর হচ্ছে জান্নাতে প্রৌঢ়দের সর্দার)-একথা কে না জানে যে,জান্নাতে যারা যাবেন তারা সবাই যুবক হয়েই জান্নাতে যাবেন। এ ধরনের কারসাজির উদ্দেশ্য কি ? আহলে বাইতকে ধামাচাপা দেয়া নয় কি ? সুতরাং ইমাম হাসান ও হোসাইন (আঃ) সকল পুরুষদেরই নেতা। আল্লাহ যাদেরকে মর্যাদা দিয়েছেন তা ষড়যন্ত্র করে খাটো করা সম্ভব নয় আর যাদেরকে মর্যাদাহীন করেছেন মিথ্যাচার করে মর্যাদাবান করাও তাদের পক্ষে অসম্ভব । প্রকৃতপক্ষে সত্যবাদিরাই মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।
শুধুমাত্র নবুওয়াতের পার্থক্য ব্যতীত রাসূল (সাঃ) যাকে একজন নবীর মর্যাদা দিলেন তিনিই হতে পারেন নারীকূল সম্রাজ্ঞী হযরত ফাতেমা (আঃ) এর স্বামী। রাসূল (সাঃ) ছিলেন জ্ঞানের ঘর আর আলী (আঃ) হলেন সেই ঘরে প্রবেশের দরজা (মিশকাত-৫৮৩৭)। হাদিসটিকে আহলে সুন্নাহ্ গরীব বলার চেষ্টা করলেও মহান আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন-
“ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই বরং কল্যাণ আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে।”(বাকারা-১৮৯)
হযরত আলী (আঃ) ই সেই ব্যক্তি যার সাথে আল্লাহ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে কথা বলেছেন (মিশকাত,১১তম খন্ড,হাদিস নং-৫৮৩৮) যার সাথে ভালবাসা রাখাকে রাসূল (সাঃ) মূমিন হওয়ার লক্ষণ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার সাথে বিদ্বেষ রাখাকে মুনাফিকী বলেছেন (মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮২৯+৫৮৪১)। কিন্তু ইতিহাস আমাদেরকে জানিয়ে দেয় আলী (আঃ) এর এই মর্যাদা জানার পরও তার সাথে মতভেদের নামে শত্র“তা করা হয়েছে , পরবর্তী জাতির কাছে তার মর্যাদাকে খাট করে প্রচার করা হয়েছে। আলী (আঃ) সেই ব্যক্তি যার সাথে কোন মতবিরোধ চলে না। কেননা তিনিই রাসূল (সাঃ) এর জ্ঞানের উত্তরাধিকারী। গাদীরে খুম নামক জায়গায় বিদায় হজ্বের শেষে ফিরার পথে লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে রাসূল (সাঃ) আলী (আঃ) এর হাত উঁচু করে ঘোষণা করেন-আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা। এ ঘোষণার পর আলী (আঃ) এর সাথে হযরত উমরের দেখা হলে উমর তাকে বলেন-ধন্যবাদ হে আবু তালিবের পুত্র! তুমি সবসময়ের জন্য প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের মাওলা হয়েছ (মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৪৪)।
রাসূল (সাঃ) ও আলী (আঃ) পরস্পরে এতই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, রাসূল (সাাঃ) বলেছেন-“আলী আমার নিকট হতে আর আমি আলী হতে। আর আমার পক্ষ হতে কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না আমি বা আলী ব্যতীত।”(মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৩৩)। রাসূল (সাঃ) তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরূত্ব দিতেন যাকে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত বানাবেন আর তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন। উপরে বর্ণিত মর্যাদা আলী (আঃ) ব্যতীত অন্য কারো ছিল না। তাহলে রাসূল (সাঃ) এর পর তার পক্ষ থেকে উম্মতের দায়িত্ব কে গ্রহণ করবেন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ এ বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব।
রাসূল (সাঃ) এর কাছে সবচেয়ে কে বেশি প্রিয় ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আহলে সুন্নাহ্র আলেমরা চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই মুখুস্থ নাম বলে দেন। যদিও এর পক্ষে তাদের দলিলও রয়েছে। তাদের আবিস্কৃত দলিলের কথা পূর্বে কিছুটা বলেছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত বলার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। এবার রাসূল (সাঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় কে ছিল তা লক্ষ্য করুন-হযরত জুমাঈ ইবনে উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি আমার ফুফুর সাথে উম্মুল মূমিনিন হযরত আয়েশার নিকট গেলাম। আমি জিজ্ঞাস করলাম,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট কোন ব্যক্তি সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন ? তিনি বললেন,ফাতেমা! তারপর জিজ্ঞাসা করা হলো,পুরূষদের মধ্যে কে ? তিনি বললেন, তার স্বামী (আলী (আঃ)।(মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৮৯৫)
এই রেওয়ায়েতের সমান্তরালে যেসব নতূন আবিস্কৃত রেওয়ায়েত সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তাতে সাধারন মানুষ তো বিভ্রান্ত হবেই, এমনকি অনেক বড় বড় আলেমও গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং গবেষণা ব্যতীত বিভ্রান্ত হয়ে আসছেন। সত্যকথা হলো আহলে সুন্নাহর আলেম-ওলামাগণ এসব ব্যাপরে কোন আগ্রই দেখায় না বরং অতীতের প্রতিষ্ঠিত ষড়যন্ত্রেরই প্রসার ঘটাচ্ছেন। আমি বেশ কিছু আলেমের সাথে কথা বলেছি তাতে তারা আহলে বাইত এবং তাদের অনুসারীদের ব্যাপারে চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু যে ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই সে ব্যাপারে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তারা সমাজে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। একবারও ভাবেন না আমরা যাদের ব্যাপারে যে সকল অভিযোগ সমাজে প্রচার করছি তা যদি সত্য না হয় তাহলে মহান আল্লাহর দরবারে মিথ্যা-অপবাদকারীদের শামিল হয়ে যাব এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ হয়ে গেলে সমাজের মানুষের কাছেও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হতে হবে। আজ ইসলামের দুশমনেরা চতুর্দিক দিক থেকে যেভাবে ষড়যন্ত্র করছে তা মোকাবিলা না করে তাওহীদবাদীরা নিজেদের মধ্যেই মুর্খতার পরিচয় দিচ্ছে। এ যুগের মানুষেরা যারা ইসলামকে ভালবাসে তাদের ভালবাসায় কোন কালিমা নেই, তারা আজ মিথ্যাচার করছে তাও ইসলামকে ভালবাসার কারনেই। শুধুমাত্র জ্ঞানের অভাব,চিন্তা-গবেষণার অভাব। আজও তাওহীদবাদী সকল মুসলমান এক কাতারে শামিল হওয়া সম্ভব। এতে শুধু মুক্ত-বুদ্ধি ও উদারতার প্রয়োজন।
উপরে আহলে বাইত ও তাদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা শুধুমাত্র আহলে সুন্নাহর সুত্র থেকে। এছাড়াও অসংখ্য হাদিস রয়েছে যা আহলে সুন্নাহর গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়নি। কেননা পবিত্র আহলে বাইত কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহ আহলে সুন্নাহ তেমন কিছুই বর্ণনা করেনি বরং আহলে বাইতের পক্ষে যায় এমন হাদিসকে তারা কাট-ছাট করে,শব্দ পরিবর্তন করে,নতুন হাদিস বানিয়ে তাদের গ্রন্থ পূর্ণ করেছে। এর মধ্যেও কিছূ সত্য রয়েছে যার মাধ্যমে আমি দলিল প্রদান করেছি। হাদিসের কারসাজি নিয়ে পরে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
এবার হাদিসে সাকালাইন অর্থাৎ ভারি বস্তুর (কোরআন ও আহলে বাইত) হাদিসের কথা চিন্তা করুন। এ দুটি বস্তু পরস্পর থেকে কখনই বিচ্ছিন্ন হয়েছে কি ? না, হাউজে কাউসারে রাসূল (সাঃ) এর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবে না। আহলে বাইতের যে ১২ জন ইমামের কথা রাসূল (সাঃ) বলেছেন তাদের ১১ জন যারা গত হয়েছেন সমকালীন সময়ে তাদের মত জ্ঞানী, পরহেযগার এবং উচ্চ মর্তবার মানুষ অন্য কেউ ছিল কি ? ইতিহাস পড়ে দেখুন। এই ১২জন ইমামের কথা সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে ১২জন খলীফা হিসেবে। চিন্তা করে দেখুন ইসলামের খলীফা হিসেব করলে ছয় নম্বর খলীফা হবেন ইয়াযীদ যার হাতে ইসলামের রক্ষাকারী ইমাম,তার পরিবার ও সহযোগীরা শহীদ হয়েছেন অথচ রাসূল (সাঃ) যাদের কথা বলেছেন তাদের হাতে ইসলামের সম্মান নিহীত। সুতরাং বুখারীর কারসাজির বর্ণনায় ১২জন খলীফা না হয়ে ১২জন ইমাম হবে। পক্ষান্তরে সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই রাসূল (সাঃ) এর মৃত্যুর পর কোরআনের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। সুতরাং তাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুন্নাহ আর আহলে বাইতের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুন্নাহ এক হতে পারে না। আজকে হাদিসের নামে যেসব পরস্পরবিরোধী কথা প্রচলিত রয়েছে তার মূল রহস্য এখানেই। কিছু বিপদগামী সাহাবীকে রক্ষা করতে গিয়ে আহলে সুন্নাহর আলেম-ওলামারা একবারও ভাবেন না যে এর মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) কে বিতর্কিত করার দরজা উম্মুক্ত করা হচ্ছে।
পবিত্র আহলে বাইত হচ্ছে নবী (সাঃ) এর রিসালাতের বিনিময়। এ মর্যাদা আল্লাহ স্বয়ং ঘোষণা করেছেনÑ
“বলুন, আমি আমার রিসালাতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কিছুই চাই না আমার নিকট আতœীয়ের(আহলে বাইত) ভালবাসা ছাড়া” (শুরা-২৩)।
আহলে বাইতের সন্তুষ্টির মধ্যেই রাসুল (সাঃ) এর সন্তুষ্টি নিহীত (বুখারী,কিতাবুর মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৪০,৩৪৪১)। আহলে বাইতই হলো রাসূল (সাঃ) এর পরে একমাত্র পবিত্র আদর্শ এবং উম্মতের নির্ভুল মানদন্ড। সুতরাং কোরআন এবং জীবন্ত কোরআন আহলে বাইতের পথই হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকীমের পথ। রাসূল (সাঃ) বলেছেনÑÑÑ“আমার আহলে বাইত হচ্ছে নূহ (আঃ) এর নৌকার ন্যায় যারা এতে আরোহন করবে তারাই মুক্তি পাবে আর যারা আরোহন করবে না তারা ধ্বংস হবে।” (মিশকাত ১১তম খন্ড.হাদিস নং-৫৯২৩) এখন আপনিই বলুন যারা এ নৌকার পরিচয়ই জানে না তাদের অবস্থা কী হবে ?
প্রশ্ন-৬ঃÑ সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ পাক আমাকে আহলে বাইতকে ভালভাবে বুঝার তৌফিক দান করুক। আপনার আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে আহলে বাইত এবং সাহাবায়ে কেরাম পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। যদি তা না হয় তাহলে দুটি ধারা কিভাবে হলো একটি আহলে বাইত অন্যটি সাহাবায়ে কেরাম ?
উত্তর ঃÑঅবশ্যই না। আমি পূর্বেই বলেছি সাহাবীদের সবাই একই মানের ছিলেন না। আহলে বাইতের অনুসারী সাহাবীও ছিলেন। এটিও চক্রান্তের ফলস্বরূপ প্রচারণায় আসেনি। যেমন রাসূল (সাঃ) এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরহেযগার সাহাবী হযরত আবুযর গিফারী (রাঃ),হযরত সালমান ফারেসী (রাঃ),হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) (যার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে আম্মার বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হবে এবং তা পরবর্তীতে সিফফীনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার হাতে বাস্তবায়িত হয়),হযরত মিকদাদ (রাঃ) ও হযরত বেলাল (রাঃ) এদের মত আর কেউ আছে কি যারা ইসলামের জন্য তাদের চেয়েও বেশি ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন ? তবে কেন রাসূল(সাঃ) এর ওফাতের পর উক্ত সাহাবীদের কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না বা তাদের প্রচারই বা এত কম কেন ?
সাহাবীদের মধ্যে একটি বিভক্তির সৃষ্টি হয় রাসূল (সাঃ) এর মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্ব থেকেই। বৃহস্পতিবার রাত্রি!!! যে রাত্রির কথা স্মরণ করে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এত পরিমাণ কাঁদতেন যে তার অশ্র“ জমিন পর্যন্ত গড়িয়ে পড়তো এবং বলতেন Ñহায় বৃহস্পতিবার!!! এ রাতেই ইসলাম ধ্বংস হয়ে গেলো। কি এমন ঘটনা সে রাত্রে ঘটলো যে কারণে ইবনে আব্বাস ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা করলেন। ঘটনাটি বুখারী কাটছাট করেছেন এবং বক্তব্য পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু মুসলিম শরীফে বিস্তারিত রয়েছে এবং দেখুন বুখারী,কিতাবুল জিহাদ-২৯৩৩+৪০৮৫,৪০৮৬নং হাদিস এবং মিশকাত,১১তম খন্ড-৫৭১৪নং হাদিস।
সেই রাতে রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধাচারণ এবং প্রলাপ বকার অপবাদ আরোপের মাধ্যমে যারা মৃত্যূর আগে রাসূল (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলেন ঠিক তাদের বিপরীতে সত্যপন্থী এবং রাসূল প্রেমিক সাহাবীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে ঘরের মধ্যেই বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে রাসূল (সাঃ) রাগান্বিত হয়ে সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং একবুক কষ্ট বুকে নিয়ে বলেনÑতোমরা আমাকে যে দিকে আহ্বান করছ (অর্থাৎ পাগল হওয়ার অপবাদ) তা থেকে আমার রব আমাকে অনেক উত্তম রেখেছেন। ইসলামের ইতিহাসের কালো রাত্রি হিসেবে পরিচিত এ বৃহস্পতিবার রাত্রের এ ঘটনার মূল বিষয়বস্তু কি ছিল এবং এ কলঙ্কজনক ঘটনার মূল নায়ক কে বা কারা ছিল তা না জেনেই যারা ইসলাম বুঝতে চায় তাদের পক্ষে সিরাতে-মুস্তাকীমের পথ পাওয়া সম্ভব নয়। কষ্ট করে ঘটনাটি পড়ে নিন।
অতএব আহলে বাইত এবং তাদের অনুসারী সাহাবীরাই ছিলেন ইসলামের খাঁটি মানব। আহলে বাইতকে ভালবাসার পর অর্থাৎ আহলে বাইতের পরিচয় ও মর্যাদা জানার পরও কি তাদের প্রতি ভালবাসা অন্তরে অবশিষ্ট থাকে যারা আহলে বাইতের দুশমন ছিল। যারা নবীর বংশকে চিরতরে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রে মাতাল ছিল। যার পূর্ণ প্রতিফলন আমরা কারবালায় দেখতে পাই। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে বুঝা কঠিন হবে না যে,বৃহস্পতিবার, সিফফীন, জঙ্গে-জামাল এবং কারবালা সবই একই সুতোয় গাথা।
সুতরাং পবিত্র আহলে বাইতের সাথে যাদের শত্র“তার সম্পর্ক ছিল এবং যাদের প্রতি আহলে বাইত (আঃ) অসন্তুষ্ট ছিলেন তারা ক্ষমতা দখল করে নিজেদের মত করে যতই উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক না কেন আল্লাহর কাছে ভয়ঙ্কর বিপদ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা জানি নারীকূল শিরোমণি হযরত ফাতেমা (আঃ) কারো কারো প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের সাথে কথা বলেননি। তিনি হযরত আলী (আঃ) কে ওছিয়ত করে গিয়েছিলেন যাতে তাকে রাতের অন্ধকারে গোপনে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করা হয় যেন যাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন তারা জানযায় অংশগ্রহণ না করতে পারেন (বুখারী.কিতাবুল জিহাদ-২৮৬৩)। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি পরবর্তীদের জন্য একটি রহস্য রেখে গেলেন যাতে তা উদঘাটনের মধ্যেই মানুষ সত্য খুজে পায়। রাসূল (সাঃ) এর সেই হাদিসটি লক্ষ্য করুনÑ“ফাতেমা আমার দেহেরই একটা অংশ । যে ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে আমাকেই কষ্ট দেয়”(বুখারী,কিতাবুর মানাকিব,হাদিস নং-৩৪৪১)।
তাই সত্যপ্রেমিকদের জানতে হবে কারা ফাতেমা (আঃ) কে কষ্ট দিয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে আশা করি সাহাবীদের ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে,যেহেতু ইতিহাসের অনেক ঘটনাই ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হয়নি, সেহেতু মানুষ তা জানতে পারলে প্রকৃত সত্য উম্মোচিত হবে,তাই মানুষ যাতে ঐ সত্য ঘটনাগুলো না জানতে পারে অথবা জানার চেষ্টাও যাতে না করে সেজন্য বিভিন্ন মিথ্যা প্রচার এবং রাসূল (সাঃ) এর নামে হাদিস বানিয়ে জাতিকে ভীত বিহ্বল করে রাখা হয়েছে যে সাহাবীদের নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না,বললে ঈমান থাকবে না ইত্যাদি আরও অনেক কিছু।যেহেতু দ্বন্দ্ব নিশ্চিত সেহেতু নিজেকে রক্ষার প্রচেষ্টা কে না করে? সত্যবাদীর জন্য তার সত্যবাদিতাই যথেষ্ট। তাই বলে মিথ্যাবাদী কি বসে থাকে? তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যত প্রকার মিথ্যার ও কৌশলের আশ্রয় প্রয়োজন,তার সবই সে গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় সত্যেরই হয়। এ বাস্তবতা অবশ্যই সামনে রাখতে হবে।
প্রশ্ন-৭ঃÑ আপনি কত সহজে এত বড় বড় বিষয় বলে ফেললেন। অথচ বিষয়গুলো এত সহজ নয়। তাহলে বর্তমানে আহলে বাইতের সঠিক অনুসারী কারা ?
উত্তরঃÑ আসলে এসব কথা এত সহজে আমিও আগে বলতে পারতাম না। কিন্তু সত্য যখন দিবালোকের মত প্রতিভাত হয় তখন সত্য প্রকাশ করতে আর দ্বিধাবোধ করি না। তাছাড়া এসব তো আর আমি নিজে থেকে বলছি না বরং কোরআন-হাদিস থেকে খুজে বের করে শুধুমাত্র তুলে ধরছি। কোথাও ভুল থাকলে এবং তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে পারলে আমি তা সাদরে গ্রহণ করব। আপনি জানতে চেয়েছেন বর্তমানে আহলে বাইতের অনুসারী কোন জাতি। আসলে আহলে বাইতের অনুসারী পৃথিবীর সবজায়গায়ই কমবেশি বিদ্যমান তথাপি রাসূল (সাঃ) এর একটি হাদিস দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরছি। পবিত্র কোরআনের সূরা মুহম্মদের ৩৮ নং আযাতটি যখন নাযিল হয়-“তোমরা যদি দ্বীন হতে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আল্লাহ তোমাদের পরিবর্তে এমন এক জাতিকে পাঠাবেন যারা তোমাদের মত হবে না”। তখন আবু হুরাইরা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন-ইয়া রাসুলুল্লাহ! তারা কোন জাতি যারা আমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আমাদের মত হবে না ? রাসূল (সাঃ) তার পাশে হযরত সালমান ফারেসীর উরুতে হাত মেরে বললেন, সে ও তার জাতি। যদি ঈমানের নূর সপ্তম আকাশের শলাকাতেও অবস্থান করে তবুও পারস্যের কিছু লোক সেখানে পৌছে যাবে” (মিশকাত,১১তমখন্ড,হাদিস নং-৫৯৯৩)।
“বলুন ,সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে আর মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ার জন্যই” (বনী-ইসরাঈল-৮১)।
বিঃ দ্রঃ এখানে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে আরো বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হবে, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা সম্ভব কিন্তু প্রশ্নকারীর অতীত বিশ্বাসের পক্ষে কয়টা যুক্তি ও প্রমাণ রয়েছে তাও ভেবে দেখা উচিত। তাহলে অল্প প্রশ্নেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছা যাবে।
# এখানে ঐসব রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হয়েছে যা আহলে সুন্নাহসহ সবার মধ্যে বিদ্যমান। সুতরাং পক্ষপাতমূলক দলীল যা নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তৈরি তা গ্রহণযোগ্য নয়।








